লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব সরকারি সুবিধা এক কার্ডে আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ আসছে

দেশের সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সব ধরনের সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা একক ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণির জন্য চালু থাকা পৃথক কার্ডের সুবিধা এই একটি কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে দেওয়া সরকারি সুবিধাগুলো একত্রিত করে এই কার্ড চালু করা হবে, যাতে একক পরিচয়ের মাধ্যমে সব সেবা পাওয়া সহজ হয়।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। কৃষকদের উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে দেশের প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভেদ থাকার সুযোগ নেই।

অর্থনীতির গতিধারা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি ও ইকোট্যুরিজম খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি করবে এবং প্রায় আড়াই লাখ তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিন বছর আগে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে প্রণীত ৩১ দফা রূপরেখা আজ দেশের মানুষের মুক্তির সনদে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সবশেষে তিনি বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

সব সরকারি সুবিধা এক কার্ডে আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ আসছে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

দেশের সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সব ধরনের সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা একক ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণির জন্য চালু থাকা পৃথক কার্ডের সুবিধা এই একটি কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে দেওয়া সরকারি সুবিধাগুলো একত্রিত করে এই কার্ড চালু করা হবে, যাতে একক পরিচয়ের মাধ্যমে সব সেবা পাওয়া সহজ হয়।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। কৃষকদের উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে দেশের প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভেদ থাকার সুযোগ নেই।

অর্থনীতির গতিধারা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি ও ইকোট্যুরিজম খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি করবে এবং প্রায় আড়াই লাখ তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিন বছর আগে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে প্রণীত ৩১ দফা রূপরেখা আজ দেশের মানুষের মুক্তির সনদে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সবশেষে তিনি বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।