লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে শিক্ষকের বকেয়া বিল ছাড়াতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে এক প্রধান শিক্ষকের বকেয়া বিল ছাড়িয়ে দেওয়ার নামে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিনের দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আটকে থাকা ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বকেয়া এরিয়া বিল ছাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ঘুষ চাওয়া হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই শিক্ষকের সরকারি ফাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মনির উদ্দিন জানান, তিনি পূর্বে লালমোহন উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তিনি বদলি হয়ে চরফ্যাশনে আসেন। এরপর গত দুই বছর ধরে বকেয়া বিলটি পাওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে নিয়মিত যোগাযোগ করে আসছিলেন। তার অভিযোগ, বিলের ফাইলের জটিলতা কাটানো এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নাম করে প্রথমে তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত করা হলেও একটি প্রত্যয়নপত্রে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাকি ছিল। সেই স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়ার কথা বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ছাত্তার তার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।

প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিনের দাবি, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বকেয়া বিল তুলতে হলে তাকে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু তিনি এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অফিস সহকারী ছাত্তার তার ওপর চড়াও হন এবং বিলের ফাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও খাতা কেড়ে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে আগে নেওয়া ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন এই শিক্ষক। ক্ষোভ প্রকাশ করে মনির উদ্দিন বলেন, "দুই বছর ধরে বিলের জন্য ঘুরছি। প্রথমে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে আবার ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই এবং আমার প্রাপ্য টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।"

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ছাত্তার। তার দাবি, শিক্ষক মনির উদ্দিনকে বিলটি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল মাত্র, তার কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ওই শিক্ষকের বিলের কাগজপত্রে তিনি ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অফিস সহকারী ছাত্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি বা নথিপত্র কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে শিক্ষকের বকেয়া বিল ছাড়াতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ

চরফ্যাশনে শিক্ষকের বকেয়া বিল ছাড়াতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে এক প্রধান শিক্ষকের বকেয়া বিল ছাড়িয়ে দেওয়ার নামে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিনের দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আটকে থাকা ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বকেয়া এরিয়া বিল ছাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ঘুষ চাওয়া হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই শিক্ষকের সরকারি ফাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মনির উদ্দিন জানান, তিনি পূর্বে লালমোহন উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তিনি বদলি হয়ে চরফ্যাশনে আসেন। এরপর গত দুই বছর ধরে বকেয়া বিলটি পাওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে নিয়মিত যোগাযোগ করে আসছিলেন। তার অভিযোগ, বিলের ফাইলের জটিলতা কাটানো এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নাম করে প্রথমে তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত করা হলেও একটি প্রত্যয়নপত্রে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাকি ছিল। সেই স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়ার কথা বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ছাত্তার তার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।

প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিনের দাবি, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বকেয়া বিল তুলতে হলে তাকে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু তিনি এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অফিস সহকারী ছাত্তার তার ওপর চড়াও হন এবং বিলের ফাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও খাতা কেড়ে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে আগে নেওয়া ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন এই শিক্ষক। ক্ষোভ প্রকাশ করে মনির উদ্দিন বলেন, "দুই বছর ধরে বিলের জন্য ঘুরছি। প্রথমে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে আবার ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই এবং আমার প্রাপ্য টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।"

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ছাত্তার। তার দাবি, শিক্ষক মনির উদ্দিনকে বিলটি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল মাত্র, তার কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ওই শিক্ষকের বিলের কাগজপত্রে তিনি ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অফিস সহকারী ছাত্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি বা নথিপত্র কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।