লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় শিশু কলি হত্যায় গ্রেপ্তার ২, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলনিয়া গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন নাহার কলির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ৫৫ বছর বয়সী মোস্তফা কামাল ও ২১ বছর বয়সী ইয়াছিন আলী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ব্রিফিং শেষে অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কলি নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় বস্তার ভেতরে ইটসহ বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে, যা মরদেহ ডুবিয়ে রাখতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তরা প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। অপরাধ লুকানোর জন্য মরদেহটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রথমে ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরদিন রাতে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তৎপরতা ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশির ঘোষণার কারণে অভিযুক্তরা মরদেহ অন্যত্র সরানোর চেষ্টাও করেছিল, কিন্তু দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় তারা সেটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

তদন্তে মোস্তফা কামালের মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দিন শিশুটির তোলা বেশ কিছু ছবি তার ফোন থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল, যা প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই প্রমাণগুলো ঘটনার পূর্বপরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ১৭ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তভার পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে এবং তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে শিক্ষকের বকেয়া বিল ছাড়াতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ

পাবনায় শিশু কলি হত্যায় গ্রেপ্তার ২, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলনিয়া গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন নাহার কলির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ৫৫ বছর বয়সী মোস্তফা কামাল ও ২১ বছর বয়সী ইয়াছিন আলী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ব্রিফিং শেষে অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কলি নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় বস্তার ভেতরে ইটসহ বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে, যা মরদেহ ডুবিয়ে রাখতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তরা প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। অপরাধ লুকানোর জন্য মরদেহটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রথমে ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরদিন রাতে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তৎপরতা ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশির ঘোষণার কারণে অভিযুক্তরা মরদেহ অন্যত্র সরানোর চেষ্টাও করেছিল, কিন্তু দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় তারা সেটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

তদন্তে মোস্তফা কামালের মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দিন শিশুটির তোলা বেশ কিছু ছবি তার ফোন থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল, যা প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই প্রমাণগুলো ঘটনার পূর্বপরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ১৭ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তভার পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে এবং তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।