লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়োগ পেয়েও সরকারি প্রাথমিকে যোগ দেননি ৯১৮ সহকারী শিক্ষক

দেশে যখন কর্মসংস্থানের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা ও একটি চাকরির জন্য হাহাকার চলছে, ঠিক তখনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। সরকারি চাকরিকে যেখানে দীর্ঘকাল ধরে নিশ্চিত ও আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেখানে এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর যোগদান না করার ঘটনা সংশ্লিষ্টদের বিস্মিত করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এসব প্রার্থীর অনেকেই হয়তো ইতিমধ্যে অন্য কোনো ভালো চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা অন্য কোনো কাজে যুক্ত আছেন।

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকের পদটি ১৩তম গ্রেডের। ২০২৬ সালের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী শুরুতে ভাতাসহ এ পদের সর্বনিম্ন বেতন হবে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। ফলে আগের চেয়ে এই চাকরিটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গত ১ অক্টোবর ছিল নতুন শিক্ষকদের যোগদানের নির্ধারিত দিন। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে যোগদানকারী শিক্ষকদের জন্য ওরিয়েন্টেশন বা পরিচিতিমূলক কার্যক্রম চলছে এবং আগামী ১১ অক্টোবর তাঁদের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে যারা যোগ দেননি, তাঁদের আর এই চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ থাকছে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ভিত্তিতে দেশের ৬১টি জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। নির্বাচিতদের মধ্যে কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন, আর ৫৫৩ জন পরবর্তী ধাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো নথি জমা দেননি। জমাকৃত নথিপত্র যাচাইয়ের পর ১৩ হাজার ৭৪৮ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৩০ জন কাজে যোগ দিয়েছেন। ফলে ৯১৮ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পেয়েও যোগদান থেকে বিরত রইলেন। এই সংখ্যা দু-একজন কমবেশি হতে পারে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।

জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ও সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৫১ জনের মধ্যে ২৪ জন কাগজপত্র জমা দেননি। ৫২৭ জন কাগজপত্র জমা দিলেও ৫২৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৬৪ জনই শেষ পর্যন্ত যোগ দেননি। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর পুলিশ ভেরিফিকেশন বা গোয়েন্দা যাচাইয়ের কারণে অনেকের নিয়োগ আটকে যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম তালিকায় সুপারিশ পাওয়া বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর নাম বাদ পড়ায় শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন ও সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে সরকার বাদ পড়া অধিকাংশ প্রার্থীকে তালিকায় যুক্ত করলেও এখনো মামলা ও অন্যান্য জটিলতায় ৮০ জনের বেশি প্রার্থীর নিয়োগ আটকে রয়েছে।

বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর এই যোগদান না করা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চলমান শিক্ষকসংকটকে আরও বাড়িয়ে দেবে। বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যেই ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যা মোট বিদ্যালয়ের অর্ধেকেরও বেশি। এছাড়া সহকারী শিক্ষকেরও কয়েক হাজার পদ খালি রয়েছে। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ের পর শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের ৮০ শতাংশ পদ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করায় এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদের সংখ্যা আরও বিপুলভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সার্বিক বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, নয় শতাধিক প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে যোগ না দেওয়ায় অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়া না–দেওয়া সবার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। ধারণা করা যায়, এসব প্রার্থী হয়তো এর চেয়ে ভালো চাকরি পেয়েছেন। অনেকে একই সময়ে একাধিক চাকরির চেষ্টা করে থাকতে পারেন। তাঁদের কাছে যে চাকরি ভালো মনে হয়েছে, শেষ পর্যন্ত সেটিই বেছে নিয়েছেন। কমবেশি সব চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রেই এমনটি হয়ে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পিরোজপুরে কাঠবোঝাই ভ্যান উল্টে দিনমজুর নিহত, শিশু সন্তান আহত

নিয়োগ পেয়েও সরকারি প্রাথমিকে যোগ দেননি ৯১৮ সহকারী শিক্ষক

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৫৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দেশে যখন কর্মসংস্থানের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা ও একটি চাকরির জন্য হাহাকার চলছে, ঠিক তখনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। সরকারি চাকরিকে যেখানে দীর্ঘকাল ধরে নিশ্চিত ও আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেখানে এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর যোগদান না করার ঘটনা সংশ্লিষ্টদের বিস্মিত করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এসব প্রার্থীর অনেকেই হয়তো ইতিমধ্যে অন্য কোনো ভালো চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা অন্য কোনো কাজে যুক্ত আছেন।

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকের পদটি ১৩তম গ্রেডের। ২০২৬ সালের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী শুরুতে ভাতাসহ এ পদের সর্বনিম্ন বেতন হবে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। ফলে আগের চেয়ে এই চাকরিটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গত ১ অক্টোবর ছিল নতুন শিক্ষকদের যোগদানের নির্ধারিত দিন। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে যোগদানকারী শিক্ষকদের জন্য ওরিয়েন্টেশন বা পরিচিতিমূলক কার্যক্রম চলছে এবং আগামী ১১ অক্টোবর তাঁদের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে যারা যোগ দেননি, তাঁদের আর এই চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ থাকছে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ভিত্তিতে দেশের ৬১টি জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। নির্বাচিতদের মধ্যে কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন, আর ৫৫৩ জন পরবর্তী ধাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো নথি জমা দেননি। জমাকৃত নথিপত্র যাচাইয়ের পর ১৩ হাজার ৭৪৮ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৩০ জন কাজে যোগ দিয়েছেন। ফলে ৯১৮ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পেয়েও যোগদান থেকে বিরত রইলেন। এই সংখ্যা দু-একজন কমবেশি হতে পারে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।

জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ও সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৫১ জনের মধ্যে ২৪ জন কাগজপত্র জমা দেননি। ৫২৭ জন কাগজপত্র জমা দিলেও ৫২৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৬৪ জনই শেষ পর্যন্ত যোগ দেননি। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর পুলিশ ভেরিফিকেশন বা গোয়েন্দা যাচাইয়ের কারণে অনেকের নিয়োগ আটকে যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম তালিকায় সুপারিশ পাওয়া বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর নাম বাদ পড়ায় শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন ও সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে সরকার বাদ পড়া অধিকাংশ প্রার্থীকে তালিকায় যুক্ত করলেও এখনো মামলা ও অন্যান্য জটিলতায় ৮০ জনের বেশি প্রার্থীর নিয়োগ আটকে রয়েছে।

বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর এই যোগদান না করা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চলমান শিক্ষকসংকটকে আরও বাড়িয়ে দেবে। বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যেই ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যা মোট বিদ্যালয়ের অর্ধেকেরও বেশি। এছাড়া সহকারী শিক্ষকেরও কয়েক হাজার পদ খালি রয়েছে। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ের পর শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের ৮০ শতাংশ পদ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করায় এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদের সংখ্যা আরও বিপুলভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সার্বিক বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, নয় শতাধিক প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে যোগ না দেওয়ায় অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়া না–দেওয়া সবার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। ধারণা করা যায়, এসব প্রার্থী হয়তো এর চেয়ে ভালো চাকরি পেয়েছেন। অনেকে একই সময়ে একাধিক চাকরির চেষ্টা করে থাকতে পারেন। তাঁদের কাছে যে চাকরি ভালো মনে হয়েছে, শেষ পর্যন্ত সেটিই বেছে নিয়েছেন। কমবেশি সব চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রেই এমনটি হয়ে থাকে।