লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানিসংকট নিরসনে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা

বর্তমান জ্বালানিসংকটের মূল কারণ হলো গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি, যা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। ২০১১-১২ সাল থেকেই পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছে। ২০১৬-১৭ সালে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন যেখানে ২৭০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছিল, তা এখন কমে প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের চেয়ে আমদানিনির্ভরতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও ল্যান্ড-বেজড রিগ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্টের মতো প্রকল্পগুলো প্রত্যাশামাফিক কার্যকর হয়নি। মহেশখালীতে মাত্র দুটি এফএসআরইউ থাকায় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস আমদানি সম্ভব হচ্ছে না।

এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো সহজ সমাধান নেই। নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত ‘বাপেক্স অনলি’ নীতি অনুসরণ করা হলেও প্রতিবছর ১০০-২০০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন কমছে। অন্যদিকে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গত ১০-১১ বছরে যেসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ভুতুড়ে বিল, লোডশেডিং, সিস্টেমে চুরি ও ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের। বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত তৃতীয় পক্ষের কারিগরি মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া শেভরনের মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানির দীর্ঘদিনের স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও অপারেশনাল সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

বর্তমান সংকট সামাল দিতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, বাসাবাড়িতে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। বর্তমানে আমরা ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন এলপিজি আমদানি করছি, অথচ বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে ৩ মিলিয়ন টন আমদানির সক্ষমতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, যানবাহনে সিএনজির বিকল্প হিসেবে অটোগ্যাসের ব্যবহার এবং কিছু শিল্পে এলপিজির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে প্রতিদিন যে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছে, তা বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে ‘ফায়ার ফাইটিং’ বা আপৎকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ চালানো হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির চাহিদা সঠিকভাবে নিরূপণ করা এবং কোন জ্বালানি কোন খাতে কী পরিমাণ ব্যবহার হবে, তার একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত চিত্র তৈরি করা জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গ্রিড ও রুফটপ সোলারকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা এবং বড়পুকুরিয়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও মূলত ২২৫ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রই চালু থাকে। বর্তমানে আমাদের বছরে ১৮-২০ মিলিয়ন টন কয়লা প্রয়োজন হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানি এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ইনভার্টার প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এসব উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে দৃশ্যমান স্বস্তি পাওয়া কঠিন হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্শা সীমান্তে অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার

জ্বালানিসংকট নিরসনে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বর্তমান জ্বালানিসংকটের মূল কারণ হলো গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি, যা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। ২০১১-১২ সাল থেকেই পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছে। ২০১৬-১৭ সালে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন যেখানে ২৭০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছিল, তা এখন কমে প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের চেয়ে আমদানিনির্ভরতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও ল্যান্ড-বেজড রিগ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্টের মতো প্রকল্পগুলো প্রত্যাশামাফিক কার্যকর হয়নি। মহেশখালীতে মাত্র দুটি এফএসআরইউ থাকায় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস আমদানি সম্ভব হচ্ছে না।

এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো সহজ সমাধান নেই। নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত ‘বাপেক্স অনলি’ নীতি অনুসরণ করা হলেও প্রতিবছর ১০০-২০০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন কমছে। অন্যদিকে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গত ১০-১১ বছরে যেসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ভুতুড়ে বিল, লোডশেডিং, সিস্টেমে চুরি ও ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের। বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত তৃতীয় পক্ষের কারিগরি মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া শেভরনের মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানির দীর্ঘদিনের স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও অপারেশনাল সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

বর্তমান সংকট সামাল দিতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, বাসাবাড়িতে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। বর্তমানে আমরা ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন এলপিজি আমদানি করছি, অথচ বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে ৩ মিলিয়ন টন আমদানির সক্ষমতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, যানবাহনে সিএনজির বিকল্প হিসেবে অটোগ্যাসের ব্যবহার এবং কিছু শিল্পে এলপিজির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে প্রতিদিন যে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছে, তা বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে ‘ফায়ার ফাইটিং’ বা আপৎকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ চালানো হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির চাহিদা সঠিকভাবে নিরূপণ করা এবং কোন জ্বালানি কোন খাতে কী পরিমাণ ব্যবহার হবে, তার একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত চিত্র তৈরি করা জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গ্রিড ও রুফটপ সোলারকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা এবং বড়পুকুরিয়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও মূলত ২২৫ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রই চালু থাকে। বর্তমানে আমাদের বছরে ১৮-২০ মিলিয়ন টন কয়লা প্রয়োজন হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানি এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ইনভার্টার প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এসব উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে দৃশ্যমান স্বস্তি পাওয়া কঠিন হবে।