লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আম্মাজান’ মুক্তির আগেই বস্তাভর্তি টাকা নিয়েছিলেন ডিপজল, জানালেন কাজী হায়াৎ

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসায় সফল ও কালজয়ী সিনেমা ‘আম্মাজান’। ১৯৯৯ সালের ২৫ জুন মুক্তি পাওয়া এই ছবিটিকে ঘিরে রয়েছে নানা চমকপ্রদ গল্প। সম্প্রতি সিনেমাটির নির্মাতা কাজী হায়াৎ তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জানান, ছবি মুক্তির আগের দিনই প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল ১ কোটি ৪ লাখ টাকা বস্তায় ভরে নিয়ে গিয়েছিলেন।

কাজী হায়াৎ জানান, ‘আম্মাজান’ সিনেমাটি তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছিল ১ কোটি ২ লাখ টাকা। ছবি মুক্তির আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় যখন সব প্রিন্ট সিনেমা হলে পৌঁছে দিয়ে তিনি ঘরে ফেরেন, ততক্ষণে ২ লাখ টাকা লাভ হয়ে যায়। মুক্তির আগেই ১ কোটি ৪ লাখ টাকা বস্তায় ভরে নিয়ে যান ডিপজল, যা সে সময় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছিল। কাজী হায়াতের ক্যারিয়ারেও এটি সবচেয়ে সফল ছবি।

কালজয়ী এই সিনেমায় নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী শবনম। তবে কাজী হায়াৎ জানান, শুরুতে ‘আম্মাজান’ চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পর্দায় চিত্রনায়ক মান্নার মা হিসেবে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ফলে তাঁর পরিবর্তে শবনমকে এই চরিত্রে কাস্ট করা হয়।

সিনেমাটিতে মান্নার অভিনয় করা নিয়েও ছিল চরম নাটকীয়তা। শুরুতে ডিপজল মান্নাকে নায়ক হিসেবে নিতে রাজি ছিলেন না, কারণ তখন মান্নার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধ চলছিল। তবে ভালো গল্পের সন্ধান পেলে মান্না নিজেই ডিপজলের কাছে ছুটে আসতেন। পরে কাজী হায়াতের বিশেষ অনুরোধে ডিপজল মান্নাকে ছবিতে নিতে রাজি হন।

তবে শুটিং চলাকালেও দুজনের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। ডিপজলের এক পুরোনো সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে জানা যায়, সিনেমার জন্য এমন একটি ভবন নির্বাচন করা হয়েছিল যা শুটিং শেষেই ভেঙে ফেলা হবে। সময়ের তাড়া থাকায় ডিপজল মান্নাকে অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা শুটিং করার অনুরোধ জানান। কিন্তু মান্না সেই অনুরোধ না শুনেই চলে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ডিপজল শুটিং বন্ধ করে দেন। এর দীর্ঘ দুই মাস পর মান্না দুঃখ প্রকাশ (সরি) করলে আবার সিনেমার কাজ শুরু হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপন চুক্তিতে বিয়ের পিঁড়িতে রোনালদো ও জর্জিনা

‘আম্মাজান’ মুক্তির আগেই বস্তাভর্তি টাকা নিয়েছিলেন ডিপজল, জানালেন কাজী হায়াৎ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসায় সফল ও কালজয়ী সিনেমা ‘আম্মাজান’। ১৯৯৯ সালের ২৫ জুন মুক্তি পাওয়া এই ছবিটিকে ঘিরে রয়েছে নানা চমকপ্রদ গল্প। সম্প্রতি সিনেমাটির নির্মাতা কাজী হায়াৎ তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জানান, ছবি মুক্তির আগের দিনই প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল ১ কোটি ৪ লাখ টাকা বস্তায় ভরে নিয়ে গিয়েছিলেন।

কাজী হায়াৎ জানান, ‘আম্মাজান’ সিনেমাটি তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছিল ১ কোটি ২ লাখ টাকা। ছবি মুক্তির আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় যখন সব প্রিন্ট সিনেমা হলে পৌঁছে দিয়ে তিনি ঘরে ফেরেন, ততক্ষণে ২ লাখ টাকা লাভ হয়ে যায়। মুক্তির আগেই ১ কোটি ৪ লাখ টাকা বস্তায় ভরে নিয়ে যান ডিপজল, যা সে সময় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছিল। কাজী হায়াতের ক্যারিয়ারেও এটি সবচেয়ে সফল ছবি।

কালজয়ী এই সিনেমায় নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী শবনম। তবে কাজী হায়াৎ জানান, শুরুতে ‘আম্মাজান’ চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পর্দায় চিত্রনায়ক মান্নার মা হিসেবে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ফলে তাঁর পরিবর্তে শবনমকে এই চরিত্রে কাস্ট করা হয়।

সিনেমাটিতে মান্নার অভিনয় করা নিয়েও ছিল চরম নাটকীয়তা। শুরুতে ডিপজল মান্নাকে নায়ক হিসেবে নিতে রাজি ছিলেন না, কারণ তখন মান্নার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধ চলছিল। তবে ভালো গল্পের সন্ধান পেলে মান্না নিজেই ডিপজলের কাছে ছুটে আসতেন। পরে কাজী হায়াতের বিশেষ অনুরোধে ডিপজল মান্নাকে ছবিতে নিতে রাজি হন।

তবে শুটিং চলাকালেও দুজনের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। ডিপজলের এক পুরোনো সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে জানা যায়, সিনেমার জন্য এমন একটি ভবন নির্বাচন করা হয়েছিল যা শুটিং শেষেই ভেঙে ফেলা হবে। সময়ের তাড়া থাকায় ডিপজল মান্নাকে অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা শুটিং করার অনুরোধ জানান। কিন্তু মান্না সেই অনুরোধ না শুনেই চলে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ডিপজল শুটিং বন্ধ করে দেন। এর দীর্ঘ দুই মাস পর মান্না দুঃখ প্রকাশ (সরি) করলে আবার সিনেমার কাজ শুরু হয়।