লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুর মেডিকেলে লোডশেডিংয়ের সময় মুঠোফোনের আলোয় চলছে চিকিৎসা সেবা

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২টি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎবিভ্রাটের সময় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। হাসপাতালের ৪০টি ওয়ার্ডের মধ্যে এই ১২টি ওয়ার্ডে জরুরি বিদ্যুৎ সংযোগ বা জেনারেটরের সুবিধা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলেই সেখানে ভুতুড়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গত আট দিন ধরে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে মেডিসিন বিভাগের ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এছাড়া ৬, ৭, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে অন্ধকার নেমে আসে। এ সময় চিকিৎসকদের মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে রোগী দেখতে ও ব্যবস্থাপত্র লিখতে দেখা গেছে। নার্সরা একইভাবে মুঠোফোনের আলোয় স্যালাইনের সুচ ফোঁড়া থেকে শুরু করে অন্যান্য সেবা প্রদান করেছেন। রোগীরা অন্ধকারে মুঠোফোনের আলো ব্যবহার করেই রাতের খাবার ও ওষুধ খেতে বাধ্য হন। কুড়িগ্রাম থেকে আসা মহসিন মিয়া জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। লালমনিরহাটের মোহাম্মদ বজলুল হক অভিযোগ করেন, অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না এবং কারো কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না।

হাসপাতালের বিদ্যুৎমিস্ত্রি কামরুজ্জামান জানান, আগে জেনারেটরের মাধ্যমে সব ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হতো। কিন্তু নেসকো হাসপাতালে ডুয়েল ফিডার চালু করার পর ১২টি ওয়ার্ডে জেনারেটরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, আট দিন ধরে জেনারেটরের জরুরি সংযোগ না থাকায় মুঠোফোনের আলোয় কাজ করতে হচ্ছে, যা রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের জন্যই চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগের ইলেকট্রোমেকানিকস উপবিভাগের প্রকৌশলী মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু পুরনো সমস্যা রয়েছে। উপকেন্দ্রগুলোতে ৮ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে ৫ মেগাওয়াট সক্ষমতা থাকায় কেবল অস্ত্রোপচার কক্ষ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও কেবিনে জেনারেটর সংযোগ রাখা হয়েছে। তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল মোকাদ্দেম জানান, কিছু ওয়ার্ডে জেনারেটর সংযোগ না থাকার বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিচারপতি শাহিদুর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক

রংপুর মেডিকেলে লোডশেডিংয়ের সময় মুঠোফোনের আলোয় চলছে চিকিৎসা সেবা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২টি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎবিভ্রাটের সময় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। হাসপাতালের ৪০টি ওয়ার্ডের মধ্যে এই ১২টি ওয়ার্ডে জরুরি বিদ্যুৎ সংযোগ বা জেনারেটরের সুবিধা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলেই সেখানে ভুতুড়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গত আট দিন ধরে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে মেডিসিন বিভাগের ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এছাড়া ৬, ৭, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে অন্ধকার নেমে আসে। এ সময় চিকিৎসকদের মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে রোগী দেখতে ও ব্যবস্থাপত্র লিখতে দেখা গেছে। নার্সরা একইভাবে মুঠোফোনের আলোয় স্যালাইনের সুচ ফোঁড়া থেকে শুরু করে অন্যান্য সেবা প্রদান করেছেন। রোগীরা অন্ধকারে মুঠোফোনের আলো ব্যবহার করেই রাতের খাবার ও ওষুধ খেতে বাধ্য হন। কুড়িগ্রাম থেকে আসা মহসিন মিয়া জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। লালমনিরহাটের মোহাম্মদ বজলুল হক অভিযোগ করেন, অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না এবং কারো কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না।

হাসপাতালের বিদ্যুৎমিস্ত্রি কামরুজ্জামান জানান, আগে জেনারেটরের মাধ্যমে সব ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হতো। কিন্তু নেসকো হাসপাতালে ডুয়েল ফিডার চালু করার পর ১২টি ওয়ার্ডে জেনারেটরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, আট দিন ধরে জেনারেটরের জরুরি সংযোগ না থাকায় মুঠোফোনের আলোয় কাজ করতে হচ্ছে, যা রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের জন্যই চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগের ইলেকট্রোমেকানিকস উপবিভাগের প্রকৌশলী মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু পুরনো সমস্যা রয়েছে। উপকেন্দ্রগুলোতে ৮ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে ৫ মেগাওয়াট সক্ষমতা থাকায় কেবল অস্ত্রোপচার কক্ষ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও কেবিনে জেনারেটর সংযোগ রাখা হয়েছে। তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল মোকাদ্দেম জানান, কিছু ওয়ার্ডে জেনারেটর সংযোগ না থাকার বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।