লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান শিক্ষক নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তারদের সম্পৃক্ততা নিয়ে ধোঁয়াশা

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের মৃত্যুর চার দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার পর ছিনতাইকারীর কবলে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় ‘প্যারা পনিরসহ’ গ্রেপ্তার ২ জন। সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও, তাঁরা এই অপরাধের সঙ্গে কতটা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এমনকি উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের রং নিয়েও যে অসংগতি দেখা দিয়েছে, তারও কোনো সুরাহা হয়নি।

নিহত রনজিলা পারভিন (৫৬) বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চিকিৎসার জন্য স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে ঢাকায় এসে গত ২৯ আগস্ট ভোরে কল্যাণপুর থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। মামলার বাদী আবদুল মতিন এজাহারে উল্লেখ করেন, রনজিলা পারভিনের হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগে দুটি মুঠোফোন ছিল। এর মধ্যে একটি স্মার্টফোন, যার আনুমানিক মূল্য ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যাগে নগদ ১০ হাজার টাকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপি ছিল। মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিলে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় তার স্বামী শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরদিন ৩০ আগস্ট র‍্যাব মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে প্যারা পনি (২৮), সহযোগী সেড্রিক জুলিয়ান (২৪) এবং মোটরসাইকেলের মালিক মো. রাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। র‍্যাব দাবি করে, তাদের কাছ থেকে একটি ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে ছিনতাইকারীদের মোটরসাইকেল নীল রঙের দেখা গেলেও, র‍্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি রুপালি ও কালো রঙের। র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের সময় র‍্যাব সেড্রিকের কাছ থেকে একটি লিনো ক্যানন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, প্যারা পনির কাছ থেকে একটি রিয়েলমি ব্র্যান্ডের নীল রঙের স্মার্টফোন এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানায়। এই অসংগতি তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের মধ্যে তিন দিন অতিবাহিত হলেও তারা এখনো অপরাধের দায় স্বীকার করেননি। মামলার বাদী আবদুল মতিন জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর ব্যাগে দুটি মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিল, কিন্তু র‍্যাব যেসব মালামাল উদ্ধারের দাবি করেছে, তা রনজিলা পারভিনের নয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গত ৩১ আগস্ট বাসা ছেড়ে চলে গেছে পরিবারটি।

প্যারা পনির বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদকসহ ১৩টি মামলার তথ্য থাকলেও, সেড্রিক ও রাকিবের বিরুদ্ধে তেমন কোনো মামলার রেকর্ড পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সেড্রিক নিয়মিত মাদক সেবন করতেন, তবে তিনি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্থানীয়রা বিশ্বাস করতে পারছেন না। শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো নিরীহ ব্যক্তি যাতে সাজা না পান, সে বিষয়ে তারা সচেতন এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিচারপতি শাহিদুর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক

প্রধান শিক্ষক নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তারদের সম্পৃক্ততা নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের মৃত্যুর চার দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার পর ছিনতাইকারীর কবলে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় ‘প্যারা পনিরসহ’ গ্রেপ্তার ২ জন। সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও, তাঁরা এই অপরাধের সঙ্গে কতটা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এমনকি উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের রং নিয়েও যে অসংগতি দেখা দিয়েছে, তারও কোনো সুরাহা হয়নি।

নিহত রনজিলা পারভিন (৫৬) বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চিকিৎসার জন্য স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে ঢাকায় এসে গত ২৯ আগস্ট ভোরে কল্যাণপুর থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। মামলার বাদী আবদুল মতিন এজাহারে উল্লেখ করেন, রনজিলা পারভিনের হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগে দুটি মুঠোফোন ছিল। এর মধ্যে একটি স্মার্টফোন, যার আনুমানিক মূল্য ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যাগে নগদ ১০ হাজার টাকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপি ছিল। মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিলে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় তার স্বামী শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরদিন ৩০ আগস্ট র‍্যাব মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে প্যারা পনি (২৮), সহযোগী সেড্রিক জুলিয়ান (২৪) এবং মোটরসাইকেলের মালিক মো. রাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। র‍্যাব দাবি করে, তাদের কাছ থেকে একটি ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে ছিনতাইকারীদের মোটরসাইকেল নীল রঙের দেখা গেলেও, র‍্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি রুপালি ও কালো রঙের। র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের সময় র‍্যাব সেড্রিকের কাছ থেকে একটি লিনো ক্যানন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, প্যারা পনির কাছ থেকে একটি রিয়েলমি ব্র্যান্ডের নীল রঙের স্মার্টফোন এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানায়। এই অসংগতি তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের মধ্যে তিন দিন অতিবাহিত হলেও তারা এখনো অপরাধের দায় স্বীকার করেননি। মামলার বাদী আবদুল মতিন জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর ব্যাগে দুটি মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিল, কিন্তু র‍্যাব যেসব মালামাল উদ্ধারের দাবি করেছে, তা রনজিলা পারভিনের নয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গত ৩১ আগস্ট বাসা ছেড়ে চলে গেছে পরিবারটি।

প্যারা পনির বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদকসহ ১৩টি মামলার তথ্য থাকলেও, সেড্রিক ও রাকিবের বিরুদ্ধে তেমন কোনো মামলার রেকর্ড পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সেড্রিক নিয়মিত মাদক সেবন করতেন, তবে তিনি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্থানীয়রা বিশ্বাস করতে পারছেন না। শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো নিরীহ ব্যক্তি যাতে সাজা না পান, সে বিষয়ে তারা সচেতন এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।