লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন বছরে বন্ধ ৪০০ পোশাক কারখানা, সংকট সমাধানে বিজিএমইএর প্রস্তাব

জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, গত তিন বছরে উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং অর্ডার সংকটের কারণে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এই সময়ে পোশাক উৎপাদনের ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা শিল্প খাতের বর্তমান সংকট ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে অনেক কারখানা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করতে পারছে। এর ফলে সময়মতো রপ্তানি আদেশ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নতুন অর্ডার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসেও রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্যোক্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, যা মুনাফার হার কমিয়ে দিচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে দ্রুত আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপন, এলএনজি আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগের দাবি অন্যতম। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি কম সুদের ঋণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন, বন্দরের আধুনিকায়ন এবং বিশেষ পোস্ট-শিপমেন্ট অর্থায়ন সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজিএমইএ নেতাদের বক্তব্য শোনেন এবং তৈরি পোশাকশিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অবস্থান ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

১৫০ থেকে ৫০০ কেজি বয়লার রয়েছে এমন কারখানাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত গ্যাস সংযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিচারপতি শাহিদুর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক

তিন বছরে বন্ধ ৪০০ পোশাক কারখানা, সংকট সমাধানে বিজিএমইএর প্রস্তাব

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, গত তিন বছরে উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং অর্ডার সংকটের কারণে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এই সময়ে পোশাক উৎপাদনের ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা শিল্প খাতের বর্তমান সংকট ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে অনেক কারখানা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করতে পারছে। এর ফলে সময়মতো রপ্তানি আদেশ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নতুন অর্ডার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসেও রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্যোক্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, যা মুনাফার হার কমিয়ে দিচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে দ্রুত আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপন, এলএনজি আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগের দাবি অন্যতম। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি কম সুদের ঋণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন, বন্দরের আধুনিকায়ন এবং বিশেষ পোস্ট-শিপমেন্ট অর্থায়ন সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজিএমইএ নেতাদের বক্তব্য শোনেন এবং তৈরি পোশাকশিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অবস্থান ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

১৫০ থেকে ৫০০ কেজি বয়লার রয়েছে এমন কারখানাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত গ্যাস সংযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।