লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তনু হত্যা মামলা: দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে এই নোটিশ জারি করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার পর তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন এবং তাদের অবস্থান অজ্ঞাত।

তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনার সময় মো. জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট এবং মো. শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পিবিআই সূত্র অনুযায়ী, পলাতক এই দুই অভিযুক্তকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত করতে, তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ইন্টারপোল এই নোটিশ জারি করে। এর ফলে সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের অবস্থান শনাক্তে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে পারবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, এই মামলায় এর আগে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে বন্দি আছেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা এবং ২০২৩ সালে তিনি অবসরে যান। ঘটনার সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। রাতে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ময়নাতদন্তের দুই দফা প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই গ্রহণ করে।

মামলার তদন্তে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিচারপতি শাহিদুর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক

তনু হত্যা মামলা: দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে এই নোটিশ জারি করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার পর তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন এবং তাদের অবস্থান অজ্ঞাত।

তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনার সময় মো. জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট এবং মো. শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পিবিআই সূত্র অনুযায়ী, পলাতক এই দুই অভিযুক্তকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত করতে, তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ইন্টারপোল এই নোটিশ জারি করে। এর ফলে সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের অবস্থান শনাক্তে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে পারবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, এই মামলায় এর আগে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে বন্দি আছেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা এবং ২০২৩ সালে তিনি অবসরে যান। ঘটনার সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। রাতে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ময়নাতদন্তের দুই দফা প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই গ্রহণ করে।

মামলার তদন্তে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত করা হয়।