লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে চলমান নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পেছনে বিগত দেড় যুগের ‘ভুল নীতি’ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের হঠাৎ অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ৯ই আগস্ট দেশে ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি হয়েছিল, যা বিগত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। জনগণের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও সাময়িক কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কারিগরি সমস্যার সমাধান ও সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি ঘটবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও তার জন্য প্রতিদিন ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে মোট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২৩০০ থেকে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সব গ্যাস সরবরাহ করলে শিল্প ও বাসাবাড়ির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে, তাই সার্বিক অর্থনীতি রক্ষায় শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

কারিগরি বিপর্যয় ও চুক্তির ঘাটতির তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট বর্তমানে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া আদানির সঙ্গে সম্পাদিত আগের চুক্তি অনুযায়ী ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে দিনে ৯০০ ও রাতে ১১০০ মেগাওয়াট। গত ২১শে জুলাই আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের দুটি এফএসআরইউ-এর একটি নষ্ট হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছিল, যার প্রভাব বিদ্যুৎ খাতে পড়েছে। তবে বর্তমানে এই সংকটের ৮৮ শতাংশই সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি বাতিল না হলে আজকের এই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো না। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা পূরণে দ্রুততম সময়ে নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হবে। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যেন আগস্ট মাসের কষ্টের পুনরাবৃত্তি সেপ্টেম্বর মাসে না ঘটে। এছাড়া নতুন রূপটপ সোলার পলিসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের সমন্বিত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী গ্রীষ্মে দেশের মানুষকে আর এই বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কষ্টে ভুগতে হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিচারপতি শাহিদুর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে চলমান নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পেছনে বিগত দেড় যুগের ‘ভুল নীতি’ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের হঠাৎ অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ৯ই আগস্ট দেশে ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি হয়েছিল, যা বিগত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। জনগণের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও সাময়িক কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কারিগরি সমস্যার সমাধান ও সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি ঘটবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও তার জন্য প্রতিদিন ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে মোট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২৩০০ থেকে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সব গ্যাস সরবরাহ করলে শিল্প ও বাসাবাড়ির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে, তাই সার্বিক অর্থনীতি রক্ষায় শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

কারিগরি বিপর্যয় ও চুক্তির ঘাটতির তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট বর্তমানে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া আদানির সঙ্গে সম্পাদিত আগের চুক্তি অনুযায়ী ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে দিনে ৯০০ ও রাতে ১১০০ মেগাওয়াট। গত ২১শে জুলাই আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের দুটি এফএসআরইউ-এর একটি নষ্ট হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছিল, যার প্রভাব বিদ্যুৎ খাতে পড়েছে। তবে বর্তমানে এই সংকটের ৮৮ শতাংশই সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি বাতিল না হলে আজকের এই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো না। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা পূরণে দ্রুততম সময়ে নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হবে। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যেন আগস্ট মাসের কষ্টের পুনরাবৃত্তি সেপ্টেম্বর মাসে না ঘটে। এছাড়া নতুন রূপটপ সোলার পলিসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের সমন্বিত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী গ্রীষ্মে দেশের মানুষকে আর এই বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কষ্টে ভুগতে হবে না।