লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে। আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল না করে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে চায়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে বর্ণনা করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও জ্বালানি খাতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও, বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করলে শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই সরকার তিনটি খাতে ভারসাম্য বজায় রেখে গ্যাস সরবরাহ করছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ হিসেবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকাকেও দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমক্ষমতার একটি ইউনিট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। চুক্তিতে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহে গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) ত্রুটি দেখা দেয়, যা মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লেগেছিল। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। তবে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, এই সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিচারপতি শাহিদুর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে। আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল না করে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে চায়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে বর্ণনা করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও জ্বালানি খাতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও, বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করলে শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই সরকার তিনটি খাতে ভারসাম্য বজায় রেখে গ্যাস সরবরাহ করছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ হিসেবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকাকেও দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমক্ষমতার একটি ইউনিট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। চুক্তিতে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহে গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) ত্রুটি দেখা দেয়, যা মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লেগেছিল। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। তবে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, এই সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।