লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদপুরে চালক হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের চার্জগঠন পিছিয়ে ২৬ অক্টোবর

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি পিছিয়ে গেছে। আগামী ২৬ অক্টোবর শুনানির নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলমের আদালত চার্জগঠনের এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অন্য মামলার শুনানি থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ তাদের আদালতে হাজির করতে পারেনি। এই কারণে চার্জগঠন শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিন শুনানির জন্য সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ কারাগারে থাকা আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলার এজলাসে নেওয়ার বিষয়ে বিচারকের কাছে ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেন পলক। তিনি বলেন, “মাননীয় আদালত, এটা কী ধরনের সিস্টেম? লিফট চালু দেখলাম, তারপরও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”

পলকের এই অভিযোগের জবাবে বিচারক জানান, নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তখন পলক পুনরায় বলেন, “এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অথরিটি। আপনার না, হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।” এ সময় সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) উদ্দেশে পলক বলেন, “পিপির মনে রাখা দরকার, তার ওই স্থান থেকে আমার এই স্থানের দূরত্ব বেশি নয়।” পরবর্তীতে আদালত থেকে নামানোর সময়ও তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানো হয়। তখন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।” পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি ও তরিকুল ইসলামসহ অন্য আইনজীবীরাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার মোট ৩৪ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং বাকিরা পলাতক। কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাজাহান খান অন্যতম।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওই দিন গাবতলীতে নিজের ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় নিহত হোসেনের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।

এছাড়া অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তির বিরোধিতায় বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা

মোহাম্মদপুরে চালক হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের চার্জগঠন পিছিয়ে ২৬ অক্টোবর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি পিছিয়ে গেছে। আগামী ২৬ অক্টোবর শুনানির নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলমের আদালত চার্জগঠনের এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অন্য মামলার শুনানি থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ তাদের আদালতে হাজির করতে পারেনি। এই কারণে চার্জগঠন শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিন শুনানির জন্য সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ কারাগারে থাকা আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলার এজলাসে নেওয়ার বিষয়ে বিচারকের কাছে ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেন পলক। তিনি বলেন, “মাননীয় আদালত, এটা কী ধরনের সিস্টেম? লিফট চালু দেখলাম, তারপরও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”

পলকের এই অভিযোগের জবাবে বিচারক জানান, নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তখন পলক পুনরায় বলেন, “এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অথরিটি। আপনার না, হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।” এ সময় সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) উদ্দেশে পলক বলেন, “পিপির মনে রাখা দরকার, তার ওই স্থান থেকে আমার এই স্থানের দূরত্ব বেশি নয়।” পরবর্তীতে আদালত থেকে নামানোর সময়ও তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানো হয়। তখন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।” পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি ও তরিকুল ইসলামসহ অন্য আইনজীবীরাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার মোট ৩৪ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং বাকিরা পলাতক। কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাজাহান খান অন্যতম।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওই দিন গাবতলীতে নিজের ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় নিহত হোসেনের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।

এছাড়া অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল।