লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন ফোন কেনার আগে অ্যান্ড্রয়েড নাকি আইফোন কোনটি বেছে নেবেন

নতুন ফোন কেনার কথা উঠলেই বন্ধুদের আড্ডায় একটি চিরচেনা প্রশ্ন শোনা যায়, ‘অ্যান্ড্রয়েড নাকি আইফোন?’ উভয় প্ল্যাটফর্মেরই নিজস্ব কিছু ভালো দিক রয়েছে। অনেকের মতে আইফোন সেরা, আবার অনেকের দাবি একই বাজেটে অ্যান্ড্রয়েডে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়।

আইফোনের প্রতি মানুষের আকর্ষণের বড় কারণ হলো এর মসৃণ ব্যবহার-অভিজ্ঞতা। অ্যাপল কোম্পানি নিজেরাই আইফোনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি করে, ফলে ফোনের প্রতিটি অংশ একে অপরের সঙ্গে চমৎকারভাবে কাজ করে। এতে অ্যাপ খুলতে দেরি হয় না এবং ফোন হ্যাং হওয়ার আশঙ্কাও তুলনামূলক কম থাকে। অনেক বছর ব্যবহারের পরও আইফোন বেশ দ্রুতগতিতে কাজ করতে সক্ষম। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার আপডেটের ক্ষেত্রে আইফোন এগিয়ে। যেখানে অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোন দুই-তিন বছরের মধ্যেই আপডেট পাওয়া বন্ধ করে দেয়, সেখানে আইফোনে পাঁচ-ছয় বছর বা তারও বেশি সময় ধরে আইওএস সংস্করণ ও নিরাপত্তা আপডেট পাওয়া যায়।

ভিডিওগ্রাফি এবং অডিওর ক্ষেত্রেও আইফোন অনেকের প্রথম পছন্দ। যদিও বর্তমানে অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোন ক্যামেরার দিক থেকে আইফোনের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে, তবুও ভিডিও ধারণের স্থিরতা, শব্দ ও আলো নিয়ন্ত্রণের কারণে ইউটিউবার বা ভ্লগারদের কাছে আইফোন এখনো নির্ভরযোগ্য। এছাড়া এয়ারপডসের মতো অ্যাপল ডিভাইসগুলোর সঙ্গে দ্রুত সংযোগ এবং ম্যাকবুক বা আইপ্যাডের সঙ্গে দারুণ ইকোসিস্টেম সুবিধা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাকে সহজ করে তোলে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অ্যাপলের ভালো সুনাম রয়েছে। এছাড়া আইফোনের রিসেল ভ্যালু বা পুনরায় বিক্রির দাম তুলনামূলক ভালো হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে অনেকে একে লাভজনক মনে করেন।

অন্যদিকে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করেন কারণ এতে কম বাজেট থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম সব ধরনের অপশন পাওয়া যায়। বড় ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং, জুম ক্যামেরা, ভাঁজ করা ডিসপ্লে কিংবা নিজের ইচ্ছেমতো ফোন সাজানোর স্বাধীনতা অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

পরিশেষে, কোনটি সেরা তা নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত চাহিদা ও বাজেটের ওপর। আপনি যদি দীর্ঘদিন একই ফোন ব্যবহার করতে চান, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট এবং শক্তিশালী ইকোসিস্টেম আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে আইফোন ভালো পছন্দ হতে পারে। আর যদি কম খরচে বেশি ফিচার, মডেলের বৈচিত্র্য এবং নিজের মতো করে ফোন ব্যবহারের স্বাধীনতা চান, তবে অ্যান্ড্রয়েডই আপনার জন্য সেরা হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিটি করপোরেশন হচ্ছে কক্সবাজার, শুরু হলো প্রশাসনিক কার্যক্রম

নতুন ফোন কেনার আগে অ্যান্ড্রয়েড নাকি আইফোন কোনটি বেছে নেবেন

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

নতুন ফোন কেনার কথা উঠলেই বন্ধুদের আড্ডায় একটি চিরচেনা প্রশ্ন শোনা যায়, ‘অ্যান্ড্রয়েড নাকি আইফোন?’ উভয় প্ল্যাটফর্মেরই নিজস্ব কিছু ভালো দিক রয়েছে। অনেকের মতে আইফোন সেরা, আবার অনেকের দাবি একই বাজেটে অ্যান্ড্রয়েডে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়।

আইফোনের প্রতি মানুষের আকর্ষণের বড় কারণ হলো এর মসৃণ ব্যবহার-অভিজ্ঞতা। অ্যাপল কোম্পানি নিজেরাই আইফোনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি করে, ফলে ফোনের প্রতিটি অংশ একে অপরের সঙ্গে চমৎকারভাবে কাজ করে। এতে অ্যাপ খুলতে দেরি হয় না এবং ফোন হ্যাং হওয়ার আশঙ্কাও তুলনামূলক কম থাকে। অনেক বছর ব্যবহারের পরও আইফোন বেশ দ্রুতগতিতে কাজ করতে সক্ষম। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার আপডেটের ক্ষেত্রে আইফোন এগিয়ে। যেখানে অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোন দুই-তিন বছরের মধ্যেই আপডেট পাওয়া বন্ধ করে দেয়, সেখানে আইফোনে পাঁচ-ছয় বছর বা তারও বেশি সময় ধরে আইওএস সংস্করণ ও নিরাপত্তা আপডেট পাওয়া যায়।

ভিডিওগ্রাফি এবং অডিওর ক্ষেত্রেও আইফোন অনেকের প্রথম পছন্দ। যদিও বর্তমানে অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোন ক্যামেরার দিক থেকে আইফোনের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে, তবুও ভিডিও ধারণের স্থিরতা, শব্দ ও আলো নিয়ন্ত্রণের কারণে ইউটিউবার বা ভ্লগারদের কাছে আইফোন এখনো নির্ভরযোগ্য। এছাড়া এয়ারপডসের মতো অ্যাপল ডিভাইসগুলোর সঙ্গে দ্রুত সংযোগ এবং ম্যাকবুক বা আইপ্যাডের সঙ্গে দারুণ ইকোসিস্টেম সুবিধা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাকে সহজ করে তোলে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অ্যাপলের ভালো সুনাম রয়েছে। এছাড়া আইফোনের রিসেল ভ্যালু বা পুনরায় বিক্রির দাম তুলনামূলক ভালো হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে অনেকে একে লাভজনক মনে করেন।

অন্যদিকে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করেন কারণ এতে কম বাজেট থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম সব ধরনের অপশন পাওয়া যায়। বড় ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং, জুম ক্যামেরা, ভাঁজ করা ডিসপ্লে কিংবা নিজের ইচ্ছেমতো ফোন সাজানোর স্বাধীনতা অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

পরিশেষে, কোনটি সেরা তা নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত চাহিদা ও বাজেটের ওপর। আপনি যদি দীর্ঘদিন একই ফোন ব্যবহার করতে চান, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট এবং শক্তিশালী ইকোসিস্টেম আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে আইফোন ভালো পছন্দ হতে পারে। আর যদি কম খরচে বেশি ফিচার, মডেলের বৈচিত্র্য এবং নিজের মতো করে ফোন ব্যবহারের স্বাধীনতা চান, তবে অ্যান্ড্রয়েডই আপনার জন্য সেরা হতে পারে।