লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হার নিয়ে যত অদ্ভুত ষড়যন্ত্রতত্ত্ব

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর থেকে দেশটির সমর্থকদের মধ্যে একের পর এক অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। মূলধারার গণমাধ্যম এসব দাবিকে আমলে না নিলেও হাজার হাজার অন্ধ ভক্ত হারের পেছনে নানা অলৌকিক ও রাজনৈতিক কারণ খুঁজছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুমের মন্তব্য নিয়ে ছড়ানো গুজব থামাতে আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি, কিংবদন্তি মারিও কেম্পেস এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে (এএফএ) পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে হয়েছে। তবে এরপরও নতুন নতুন দাবি ডালপালা মেলছে।

ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলোর একটিতে দাবি করা হয়েছে, পাউ কুবারসির পায়ে লেগে বল শেষ মুহূর্তে গোললাইন পেরিয়ে ভেতরে ঢুকেছিল, যা বলের ছায়া দেখে বোঝা গেছে। এমনকি বলের ভেতরের ট্র্যাকিং চিপ ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলেও দাবি করা হচ্ছে। আরেকটি তত্ত্বে বলা হয়, ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও তাঁদের পরিবারকে শিরোপা না জেতার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল, যার কারণে অনেকে স্টেডিয়ামেই যাননি। এছাড়া, ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে ফিফা কর্তৃক খেলোয়াড়দের ডোপিং পরীক্ষার মুখোমুখি করার দাবিও উঠেছে, যা নাকি তাদের মানসিক প্রস্তুতি নষ্ট করেছে। যদিও ফিফা জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের নিয়মিত প্রটোকলের অংশ এবং এ নিয়ে আর্জেন্টিনা দল কোনো অভিযোগ করেনি।

সবচেয়ে অদ্ভুত রাজনৈতিক চক্রান্তের তত্ত্বে জড়ানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্পেনের রাজা, প্রিমিয়ার লিগ, রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এবং আতলেতিকো মাদ্রিদকে। দাবি করা হচ্ছে, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ-সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আন্তর্জাতিক মহল ক্ষুব্ধ হয়ে আর্জেন্টিনাকে হারানোর এই সমন্বিত পরিকল্পনা করে। এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নাকি মেসিকে ট্রফি ছেড়ে দিতে বলেছিলেন, অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির হুমকি দেন। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের ফিফা নির্বাচনে ইউরোপীয় ভোট নিশ্চিত করতে ইনফান্তিনো উয়েফার সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে স্পেনকে জিতিয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। অন্য একটি তত্ত্বে বলা হয়, ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে স্টেডিয়াম থেকে এফবিআই গ্রেপ্তার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবর ড্রেসিংরুমে পৌঁছালে খেলোয়াড়দের মনোযোগ নষ্ট হয়। এছাড়া ফিফা নাকি আগেই ঠিক করে রেখেছিল যে কোনো দল টানা দুবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না, তাই বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নের প্রয়োজন ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিওনেল মেসি ও শিশু লামিনে ইয়ামালের বহু বছরের পুরোনো একটি ছবি নিয়েও অদ্ভুত তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, ইয়ামালকে গোসল করানোর সেই ছবি আসলে ফ্রিম্যাসনদের 'দীক্ষা অনুষ্ঠান' বা 'সত্তা স্থানান্তরের' প্রতীকী আচার ছিল, যার মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপে ফুটবলের আধিপত্য হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বার্সেলোনা মূলত একটি ফ্রিম্যাসনিক ক্লাব। অন্যদিকে, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর চোট এবং আর্জেন্টিনার রক্ষণাত্মক খেলার পেছনে স্পোর্টস বেটিংয়ের গোপন সমঝোতা কাজ করেছে বলে দাবি এক দলের। এমনকি স্পেন নাকি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের ওপর হামলার জন্য নিজেদের রোতা ও মোরোন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে এই বিশ্বকাপ জিতেছে—এমন দাবিও উঠেছে। এছাড়া, কালো জাদু বা অলৌকিক উপায়ে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের শক্তি শুষে নেওয়া এবং রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ফাইনাল ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবিও তুলছেন অনেক সমর্থক।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার খবরে তেলের দাম হ্রাস

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হার নিয়ে যত অদ্ভুত ষড়যন্ত্রতত্ত্ব

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর থেকে দেশটির সমর্থকদের মধ্যে একের পর এক অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। মূলধারার গণমাধ্যম এসব দাবিকে আমলে না নিলেও হাজার হাজার অন্ধ ভক্ত হারের পেছনে নানা অলৌকিক ও রাজনৈতিক কারণ খুঁজছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুমের মন্তব্য নিয়ে ছড়ানো গুজব থামাতে আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি, কিংবদন্তি মারিও কেম্পেস এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে (এএফএ) পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে হয়েছে। তবে এরপরও নতুন নতুন দাবি ডালপালা মেলছে।

ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলোর একটিতে দাবি করা হয়েছে, পাউ কুবারসির পায়ে লেগে বল শেষ মুহূর্তে গোললাইন পেরিয়ে ভেতরে ঢুকেছিল, যা বলের ছায়া দেখে বোঝা গেছে। এমনকি বলের ভেতরের ট্র্যাকিং চিপ ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলেও দাবি করা হচ্ছে। আরেকটি তত্ত্বে বলা হয়, ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও তাঁদের পরিবারকে শিরোপা না জেতার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল, যার কারণে অনেকে স্টেডিয়ামেই যাননি। এছাড়া, ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে ফিফা কর্তৃক খেলোয়াড়দের ডোপিং পরীক্ষার মুখোমুখি করার দাবিও উঠেছে, যা নাকি তাদের মানসিক প্রস্তুতি নষ্ট করেছে। যদিও ফিফা জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের নিয়মিত প্রটোকলের অংশ এবং এ নিয়ে আর্জেন্টিনা দল কোনো অভিযোগ করেনি।

সবচেয়ে অদ্ভুত রাজনৈতিক চক্রান্তের তত্ত্বে জড়ানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্পেনের রাজা, প্রিমিয়ার লিগ, রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এবং আতলেতিকো মাদ্রিদকে। দাবি করা হচ্ছে, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ-সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আন্তর্জাতিক মহল ক্ষুব্ধ হয়ে আর্জেন্টিনাকে হারানোর এই সমন্বিত পরিকল্পনা করে। এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নাকি মেসিকে ট্রফি ছেড়ে দিতে বলেছিলেন, অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির হুমকি দেন। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের ফিফা নির্বাচনে ইউরোপীয় ভোট নিশ্চিত করতে ইনফান্তিনো উয়েফার সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে স্পেনকে জিতিয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। অন্য একটি তত্ত্বে বলা হয়, ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে স্টেডিয়াম থেকে এফবিআই গ্রেপ্তার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবর ড্রেসিংরুমে পৌঁছালে খেলোয়াড়দের মনোযোগ নষ্ট হয়। এছাড়া ফিফা নাকি আগেই ঠিক করে রেখেছিল যে কোনো দল টানা দুবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না, তাই বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নের প্রয়োজন ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিওনেল মেসি ও শিশু লামিনে ইয়ামালের বহু বছরের পুরোনো একটি ছবি নিয়েও অদ্ভুত তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, ইয়ামালকে গোসল করানোর সেই ছবি আসলে ফ্রিম্যাসনদের 'দীক্ষা অনুষ্ঠান' বা 'সত্তা স্থানান্তরের' প্রতীকী আচার ছিল, যার মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপে ফুটবলের আধিপত্য হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বার্সেলোনা মূলত একটি ফ্রিম্যাসনিক ক্লাব। অন্যদিকে, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর চোট এবং আর্জেন্টিনার রক্ষণাত্মক খেলার পেছনে স্পোর্টস বেটিংয়ের গোপন সমঝোতা কাজ করেছে বলে দাবি এক দলের। এমনকি স্পেন নাকি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের ওপর হামলার জন্য নিজেদের রোতা ও মোরোন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে এই বিশ্বকাপ জিতেছে—এমন দাবিও উঠেছে। এছাড়া, কালো জাদু বা অলৌকিক উপায়ে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের শক্তি শুষে নেওয়া এবং রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ফাইনাল ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবিও তুলছেন অনেক সমর্থক।