লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্র নিয়ে হট্টগোল

রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন-মৈত্রী) আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে চরম হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার উপস্থিতিতেই এই বিশৃঙ্খলা শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত মঞ্চ ও প্রেক্ষাগৃহে অবস্থান নেন।

অনুষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, গণ-অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রটিতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে ফুটে ওঠেনি বলে উপস্থিত অতিথিদের একাংশ অভিযোগ করেন। বিশেষ করে ৩ আগস্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ তথ্যচিত্রে পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকায় তারা ক্ষুব্ধ হন। প্রতিবাদকারীরা হইচই শুরু করলে অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে মঞ্চে আসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। তিনি উপস্থিতদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন, তবে তার আহ্বানের পরও উত্তেজনা কমেনি।

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের মধ্য থেকে যারা বক্তব্য দিতে চান, দয়া করে এখানে এসে কথা বলুন। আপনারা শান্ত হয়ে বসুন।’ একই সময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে মঞ্চে আহ্বান জানান। মঞ্চে উঠে আখতার হোসেন বলেন, ‘ডকুমেন্টারিতে যে অসংগতি আছে তা আমরা দেখেছি এবং আমরা সরকারকে বিষয়টি জানাব। ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ এখানে একেবারে অনুপস্থিত। এসব নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি চাইব। তবে আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে শহীদ পরিবারের সম্মানে আমাদের শান্ত থাকতে হবে।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান তাৎক্ষণিক বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে আপনারা এই ডকুমেন্টারি দেখে মনে কষ্ট পেয়েছেন। এই জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান আমাদের সবার। তথ্যচিত্রে ৩ আগস্টের বিষয়সহ যে সব অসংগতি রয়েছে, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব এবং দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেব।’ এই ঘোষণার পর প্রতিবাদকারীরা শান্ত হন এবং অনুষ্ঠানের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসে। এরপর বাকি কর্মসূচি যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্র নিয়ে হট্টগোল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন-মৈত্রী) আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে চরম হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার উপস্থিতিতেই এই বিশৃঙ্খলা শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত মঞ্চ ও প্রেক্ষাগৃহে অবস্থান নেন।

অনুষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, গণ-অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রটিতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে ফুটে ওঠেনি বলে উপস্থিত অতিথিদের একাংশ অভিযোগ করেন। বিশেষ করে ৩ আগস্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ তথ্যচিত্রে পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকায় তারা ক্ষুব্ধ হন। প্রতিবাদকারীরা হইচই শুরু করলে অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে মঞ্চে আসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। তিনি উপস্থিতদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন, তবে তার আহ্বানের পরও উত্তেজনা কমেনি।

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের মধ্য থেকে যারা বক্তব্য দিতে চান, দয়া করে এখানে এসে কথা বলুন। আপনারা শান্ত হয়ে বসুন।’ একই সময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে মঞ্চে আহ্বান জানান। মঞ্চে উঠে আখতার হোসেন বলেন, ‘ডকুমেন্টারিতে যে অসংগতি আছে তা আমরা দেখেছি এবং আমরা সরকারকে বিষয়টি জানাব। ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ এখানে একেবারে অনুপস্থিত। এসব নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি চাইব। তবে আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে শহীদ পরিবারের সম্মানে আমাদের শান্ত থাকতে হবে।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান তাৎক্ষণিক বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে আপনারা এই ডকুমেন্টারি দেখে মনে কষ্ট পেয়েছেন। এই জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান আমাদের সবার। তথ্যচিত্রে ৩ আগস্টের বিষয়সহ যে সব অসংগতি রয়েছে, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব এবং দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেব।’ এই ঘোষণার পর প্রতিবাদকারীরা শান্ত হন এবং অনুষ্ঠানের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসে। এরপর বাকি কর্মসূচি যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়।