লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল ও অশালীন প্রস্তাব, পদত্যাগের ঘোষণা শিক্ষকের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন প্রস্তাব ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে। ১৪ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর চাচা মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সোহেল প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। তিনি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন এবং একপর্যায়ে ছাত্রীটিকে শাড়ি পরা ছবি পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষক তাকে মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রীটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যালয় ও প্রাইভেট পড়তে যেতে আতঙ্কবোধ করছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সোহেল তার দোষ স্বীকার করে বলেন, তিনি ভুল করেছেন এবং বিষয়টি এত দূর গড়াবে তা বুঝতে পারেননি। তিনি আরও জানান, যেহেতু ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে, তাই তিনি আর চাকরি করবেন না এবং দুই-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। নিজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেন, তিনি শিক্ষক হিসেবে নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছেন এবং শিক্ষার্থীদের অন্য কোনো শিক্ষকের কাছে পড়ার পরামর্শ দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং বিষয়টি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও থানায় অভিযোগ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে প্রশাসনিক তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তনু হত্যা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন স্থগিত, আত্মসমর্পণের নির্দেশ

ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল ও অশালীন প্রস্তাব, পদত্যাগের ঘোষণা শিক্ষকের

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:১০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন প্রস্তাব ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে। ১৪ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর চাচা মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সোহেল প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। তিনি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর বার্তা পাঠাতেন এবং একপর্যায়ে ছাত্রীটিকে শাড়ি পরা ছবি পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষক তাকে মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রীটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যালয় ও প্রাইভেট পড়তে যেতে আতঙ্কবোধ করছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সোহেল তার দোষ স্বীকার করে বলেন, তিনি ভুল করেছেন এবং বিষয়টি এত দূর গড়াবে তা বুঝতে পারেননি। তিনি আরও জানান, যেহেতু ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে, তাই তিনি আর চাকরি করবেন না এবং দুই-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। নিজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেন, তিনি শিক্ষক হিসেবে নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছেন এবং শিক্ষার্থীদের অন্য কোনো শিক্ষকের কাছে পড়ার পরামর্শ দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং বিষয়টি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও থানায় অভিযোগ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে প্রশাসনিক তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।