লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়াতুল কুরসির ফজিলত ও গুরুত্ব

সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি ‘আয়াতুল কুরসি’ নামে পরিচিত। দশটি স্বতন্ত্র বাক্য সম্বলিত এই আয়াতের মূল উপজীব্য হলো আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদ। আল্লাহর গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায় সমৃদ্ধ এই আয়াতটিকে হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এটি নিয়মিত পাঠ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

আয়াতুল কুরসি পাঠ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, তিন সময়ে এটি পাঠ করা অত্যন্ত কল্যাণকর। প্রথমত, সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জিনের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকা যায়। হাদিসে আছে, ‘যে সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে।’ (মুসতাদরাকে হাকিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৭৪৯)

দ্বিতীয়ত, ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর এটি নিয়মিত পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪৪৩)।

তৃতীয়ত, রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সহিহ বুখারির হাদিস (৫০১০) অনুযায়ী, রাতে শোয়ার সময় এটি পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন রক্ষাকর্তা নিযুক্ত থাকেন এবং শয়তান তার ধারেকাছেও আসতে পারে না।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে শয়তানের কাছ থেকে আয়াতুল কুরসির এই বিশেষ গুণের কথা জানা যায়। রমজানের জাকাত বা সদকাতুল ফিতরের খেজুর দেখাশোনার দায়িত্ব পালনকালে তিনি তিন রাতে এক আগুন্তুকের মুখোমুখি হন, যে বারবার খেজুর চুরি করতে এসেছিল। তৃতীয় রাতে তাকে পাকড়াও করলে সে মুক্তি পাওয়ার বিনিময়ে আবু হুরায়রাকে (রা.) আয়াতুল কুরসি শিক্ষা দেয় এবং জানায় যে, বিছানায় যাওয়ার সময় এটি পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত শয়তানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু হুরায়রাকে (রা.) নিশ্চিত করেন যে, আগুন্তুকটি ছিল শয়তান, তবে সে সত্যি কথা বলেছে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১)।

আয়াতুল কুরসির অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

আয়াতুল কুরসির ফজিলত ও গুরুত্ব

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি ‘আয়াতুল কুরসি’ নামে পরিচিত। দশটি স্বতন্ত্র বাক্য সম্বলিত এই আয়াতের মূল উপজীব্য হলো আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদ। আল্লাহর গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায় সমৃদ্ধ এই আয়াতটিকে হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এটি নিয়মিত পাঠ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

আয়াতুল কুরসি পাঠ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, তিন সময়ে এটি পাঠ করা অত্যন্ত কল্যাণকর। প্রথমত, সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে জিনের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকা যায়। হাদিসে আছে, ‘যে সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে।’ (মুসতাদরাকে হাকিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৭৪৯)

দ্বিতীয়ত, ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর এটি নিয়মিত পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪৪৩)।

তৃতীয়ত, রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সহিহ বুখারির হাদিস (৫০১০) অনুযায়ী, রাতে শোয়ার সময় এটি পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন রক্ষাকর্তা নিযুক্ত থাকেন এবং শয়তান তার ধারেকাছেও আসতে পারে না।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে শয়তানের কাছ থেকে আয়াতুল কুরসির এই বিশেষ গুণের কথা জানা যায়। রমজানের জাকাত বা সদকাতুল ফিতরের খেজুর দেখাশোনার দায়িত্ব পালনকালে তিনি তিন রাতে এক আগুন্তুকের মুখোমুখি হন, যে বারবার খেজুর চুরি করতে এসেছিল। তৃতীয় রাতে তাকে পাকড়াও করলে সে মুক্তি পাওয়ার বিনিময়ে আবু হুরায়রাকে (রা.) আয়াতুল কুরসি শিক্ষা দেয় এবং জানায় যে, বিছানায় যাওয়ার সময় এটি পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত শয়তানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু হুরায়রাকে (রা.) নিশ্চিত করেন যে, আগুন্তুকটি ছিল শয়তান, তবে সে সত্যি কথা বলেছে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১)।

আয়াতুল কুরসির অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।