লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনা সুদে ডিজিটাল ঋণের নতুন সুবিধা চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়ার একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে এই নতুন সুবিধাটি আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হতে পারে বলে জানা গেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই ঋণের অর্থ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ, ভ্রমণ ব্যয়, সরকারি সেবার ফি, কর, বিমার প্রিমিয়াম এবং ঋণ বা আমানতের কিস্তি পরিশোধের কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে এই ঋণের অর্থ সরাসরি নগদ তোলা বা কোনো মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ওয়ালেটে স্থানান্তর করা যাবে না। অনুমোদিত ঋণ সরাসরি নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করতে হবে।

প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলো ছয় মাস এই সুবিধাটি পরীক্ষামূলকভাবে বা পাইলট ভিত্তিতে পরিচালনা করবে। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হবে। ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মেয়াদ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো সুদ নেয়া হবে না, তবে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি গ্রহণ করবে।

সেবা ফির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ঋণের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা ফি প্রযোজ্য হবে। একইভাবে ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা ফি নেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে কোনো বাড়তি সুদ বা জরিমানা দিতে হবে না। তবে সময়সীমা পার হলে জরিমানা আরোপের সুযোগ রয়েছে, যা দৈনিক সেবা ফির চেয়ে বেশি হবে না।

পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে এবং লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি বা একাধিক স্তরের নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। ব্যাংকগুলো এই সুবিধা পরিচালনার জন্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, এমএফএস এবং ফিনটেক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এই সুবিধার ফলে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রাহকেরা সহজে ছোট অঙ্কের ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ করলেন সহশিল্পী মৌসুমী

বিনা সুদে ডিজিটাল ঋণের নতুন সুবিধা চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়ার একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে এই নতুন সুবিধাটি আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হতে পারে বলে জানা গেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই ঋণের অর্থ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ, ভ্রমণ ব্যয়, সরকারি সেবার ফি, কর, বিমার প্রিমিয়াম এবং ঋণ বা আমানতের কিস্তি পরিশোধের কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে এই ঋণের অর্থ সরাসরি নগদ তোলা বা কোনো মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ওয়ালেটে স্থানান্তর করা যাবে না। অনুমোদিত ঋণ সরাসরি নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করতে হবে।

প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলো ছয় মাস এই সুবিধাটি পরীক্ষামূলকভাবে বা পাইলট ভিত্তিতে পরিচালনা করবে। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হবে। ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মেয়াদ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো সুদ নেয়া হবে না, তবে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি গ্রহণ করবে।

সেবা ফির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ঋণের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা ফি প্রযোজ্য হবে। একইভাবে ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা ফি নেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে কোনো বাড়তি সুদ বা জরিমানা দিতে হবে না। তবে সময়সীমা পার হলে জরিমানা আরোপের সুযোগ রয়েছে, যা দৈনিক সেবা ফির চেয়ে বেশি হবে না।

পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে এবং লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি বা একাধিক স্তরের নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। ব্যাংকগুলো এই সুবিধা পরিচালনার জন্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, এমএফএস এবং ফিনটেক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এই সুবিধার ফলে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রাহকেরা সহজে ছোট অঙ্কের ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।