লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ

নতুন একটি চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া–বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি সপ্তাহে বোয়িংয়ের কেনাকাটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি ‘অভূতপূর্ব সমঝোতা’ হয়েছে।

সার্জিও গর তাঁর পোস্টে নতুন করে কতগুলো উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করলেও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বোয়িংয়ের ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রয়োজন সাপেক্ষে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগস্টের শেষ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যঘাটতি কমানোর উপায় হিসেবে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি সামনে আসে। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বিমানের বহর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রথমে ১৪টি এবং পরে অতিরিক্ত আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শেখ বশিরউদ্দীন বিমানের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে এই ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দেন, যা দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনাকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখে।

এপ্রিলে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ১৪টি উড়োজাহাজের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে এবং বাকিগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। আর নতুন করে প্রস্তাবিত ১১টি উড়োজাহাজ হাতে পেতে ২০৩৫ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে এই উড়োজাহাজগুলো কেনার জন্য এককালীন অর্থ পরিশোধ করতে হবে না বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৩০ জুলাই তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর। সফরের শেষ দিনে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ঢাকা সফর শেষে দিল্লি যাওয়ার আগে এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দুই দেশের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধির অপার সম্ভাবনার কথা জানান। এরপর গত রোববার রাতে পুনরায় এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন, যার আওতায় বাংলাদেশ বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রাথমিক ক্রয়াদেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়ার আটককেন্দ্র থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন একটি চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া–বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি সপ্তাহে বোয়িংয়ের কেনাকাটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি ‘অভূতপূর্ব সমঝোতা’ হয়েছে।

সার্জিও গর তাঁর পোস্টে নতুন করে কতগুলো উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করলেও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বোয়িংয়ের ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রয়োজন সাপেক্ষে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগস্টের শেষ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যঘাটতি কমানোর উপায় হিসেবে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি সামনে আসে। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বিমানের বহর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রথমে ১৪টি এবং পরে অতিরিক্ত আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শেখ বশিরউদ্দীন বিমানের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে এই ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দেন, যা দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনাকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখে।

এপ্রিলে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ১৪টি উড়োজাহাজের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে এবং বাকিগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। আর নতুন করে প্রস্তাবিত ১১টি উড়োজাহাজ হাতে পেতে ২০৩৫ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে এই উড়োজাহাজগুলো কেনার জন্য এককালীন অর্থ পরিশোধ করতে হবে না বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৩০ জুলাই তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর। সফরের শেষ দিনে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ঢাকা সফর শেষে দিল্লি যাওয়ার আগে এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দুই দেশের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধির অপার সম্ভাবনার কথা জানান। এরপর গত রোববার রাতে পুনরায় এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন, যার আওতায় বাংলাদেশ বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রাথমিক ক্রয়াদেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।