লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৌলতপুরে কবর থেকে ‘পীরের’ লাশ তুলে দরবারে দাফন, এলাকায় উত্তেজনা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দাফনের দীর্ঘ ৫ মাস পর কবর থেকে আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানের লাশ তুলে তার নিজস্ব দরবারে পুনরায় দাফন করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত হওয়ার পর থেকেই পীর শামীমের ভক্তদের একটি অংশ কবর থেকে তার লাশ তুলে দরবারে দাফন করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এই আশঙ্কায় পীরকে দাফন করার পর বেশ কিছুদিন ওই কবরস্থানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে গত শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে ভক্তরা গোপনে কবর থেকে লাশটি তুলে নিয়ে তাদের নিজস্ব দরবারে পুনরায় দাফন সম্পন্ন করেন।

নিহতের ভাই মো. ফজলুর রহমান সান্টু বলেন, “রাতের আঁধারে কারা কীভাবে কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করে দরবারে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।”

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পীর শামীম জাহাঙ্গীরের লাশ কবরস্থান থেকে কে বা কারা উত্তোলন করে দরবারে পুনরায় দাফন করেছে—এমন খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই।”

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, “পীরের লাশ কবরস্থান থেকে উত্তোলন করে দরবারে পুনরায় দাফন করা হয়েছে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরবর্তী যে সিদ্ধান্ত হবে, তা জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালায়। এ সময় তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ এপ্রিল স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এই ঘটনার ৩ দিন পর নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ হকি দল

দৌলতপুরে কবর থেকে ‘পীরের’ লাশ তুলে দরবারে দাফন, এলাকায় উত্তেজনা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দাফনের দীর্ঘ ৫ মাস পর কবর থেকে আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানের লাশ তুলে তার নিজস্ব দরবারে পুনরায় দাফন করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত হওয়ার পর থেকেই পীর শামীমের ভক্তদের একটি অংশ কবর থেকে তার লাশ তুলে দরবারে দাফন করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এই আশঙ্কায় পীরকে দাফন করার পর বেশ কিছুদিন ওই কবরস্থানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে গত শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে ভক্তরা গোপনে কবর থেকে লাশটি তুলে নিয়ে তাদের নিজস্ব দরবারে পুনরায় দাফন সম্পন্ন করেন।

নিহতের ভাই মো. ফজলুর রহমান সান্টু বলেন, “রাতের আঁধারে কারা কীভাবে কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করে দরবারে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।”

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পীর শামীম জাহাঙ্গীরের লাশ কবরস্থান থেকে কে বা কারা উত্তোলন করে দরবারে পুনরায় দাফন করেছে—এমন খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই।”

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, “পীরের লাশ কবরস্থান থেকে উত্তোলন করে দরবারে পুনরায় দাফন করা হয়েছে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরবর্তী যে সিদ্ধান্ত হবে, তা জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালায়। এ সময় তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ এপ্রিল স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এই ঘটনার ৩ দিন পর নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।