লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে স্থবিরতা, অলস বসে আছে ৫২ জাহাজ

প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। টানা অতিবৃষ্টি ও সমুদ্র উত্তাল থাকায় গত চারদিন ধরে বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজ ভিড়তে পারছে না, যার ফলে ৫২টি মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে অতিবৃষ্টির কারণে বন্দরের বিভিন্ন অফডকে পানি ঢুকে কনটেইনারে সংরক্ষিত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, এই চার দিনের দুর্যোগে তাদের শতকোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বহির্নোঙরে ৫৫টি মাদার ভেসেল অবস্থান করছিল, যার মধ্যে মাত্র তিনটি জাহাজে বৃষ্টির বিরতিতে সীমিত পরিসরে পণ্য খালাস করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৫২টি জাহাজ পণ্য নিয়ে অলস অবস্থায় পড়ে আছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় এবং দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে পণ্য খালাস সীমিত রাখা হয়েছে। তবে পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বন্দরের মূল জেটিতে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা স্বাভাবিক রয়েছে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বহির্নোঙরের জট দ্রুত কেটে যাবে।

তবে মূল জেটিতে কার্যক্রম সচল থাকলেও অতিবৃষ্টি ও নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার কারণে কনটেইনার ডেলিভারি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার কনটেইনার ডেলিভারি হয়, সেখানে গত চারদিন ধরে তা দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ কনটেইনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতে একদিকে বহির্নোঙরে জাহাজের সারি দীর্ঘ হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনারের চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল ইসলাম সুজন জানান, বন্দরের চ্যানেলের গভীরতা সাড়ে ৯ মিটার হওয়ায় ১২ মিটারের বেশি ড্রাফটের মাদার ভেসেল সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারে না। এসব জাহাজ মহেশখালী-কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে। সাগর উত্তাল থাকলে দুই জাহাজের সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে খালাস বন্ধ রাখতে হয়। এই দীর্ঘসূত্রতায় প্রতিটি জাহাজের জন্য আমদানিকারকদের প্রতিদিন ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ওয়েটিং চার্জ গুনতে হচ্ছে।

বিজিএমইএর পরিচালক এমডিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, কাঁচামাল সময়মতো খালাস না হওয়ায় শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বাজার সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে শ্রমিকরা কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় কারখানাগুলোতে উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে স্থবিরতা, অলস বসে আছে ৫২ জাহাজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। টানা অতিবৃষ্টি ও সমুদ্র উত্তাল থাকায় গত চারদিন ধরে বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজ ভিড়তে পারছে না, যার ফলে ৫২টি মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে অতিবৃষ্টির কারণে বন্দরের বিভিন্ন অফডকে পানি ঢুকে কনটেইনারে সংরক্ষিত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, এই চার দিনের দুর্যোগে তাদের শতকোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বহির্নোঙরে ৫৫টি মাদার ভেসেল অবস্থান করছিল, যার মধ্যে মাত্র তিনটি জাহাজে বৃষ্টির বিরতিতে সীমিত পরিসরে পণ্য খালাস করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৫২টি জাহাজ পণ্য নিয়ে অলস অবস্থায় পড়ে আছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় এবং দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে পণ্য খালাস সীমিত রাখা হয়েছে। তবে পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বন্দরের মূল জেটিতে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা স্বাভাবিক রয়েছে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বহির্নোঙরের জট দ্রুত কেটে যাবে।

তবে মূল জেটিতে কার্যক্রম সচল থাকলেও অতিবৃষ্টি ও নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার কারণে কনটেইনার ডেলিভারি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার কনটেইনার ডেলিভারি হয়, সেখানে গত চারদিন ধরে তা দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ কনটেইনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতে একদিকে বহির্নোঙরে জাহাজের সারি দীর্ঘ হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনারের চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল ইসলাম সুজন জানান, বন্দরের চ্যানেলের গভীরতা সাড়ে ৯ মিটার হওয়ায় ১২ মিটারের বেশি ড্রাফটের মাদার ভেসেল সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারে না। এসব জাহাজ মহেশখালী-কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে। সাগর উত্তাল থাকলে দুই জাহাজের সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে খালাস বন্ধ রাখতে হয়। এই দীর্ঘসূত্রতায় প্রতিটি জাহাজের জন্য আমদানিকারকদের প্রতিদিন ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ওয়েটিং চার্জ গুনতে হচ্ছে।

বিজিএমইএর পরিচালক এমডিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, কাঁচামাল সময়মতো খালাস না হওয়ায় শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বাজার সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে শ্রমিকরা কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় কারখানাগুলোতে উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।