লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় জলাবদ্ধতা: অপরিকল্পিত নগরায়ণের চরম খেসারত দিচ্ছে নগরবাসী

রাজধানী ঢাকায় একদিনের ভারি বর্ষণেই জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সড়ক, অলিগলি, আবাসিক এলাকা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলমগ্ন সড়কে আটকা পড়েছেন, এমনকি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পায়নি। অনেক জায়গায় যানবাহন বিকল হয়ে পড়েছে এবং মানুষকে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে এবং অনেক স্কুল-কলেজ পুনরায় অনলাইন ক্লাসে ফিরে গেছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটেছে। এছাড়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিলম্ব, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এমন অতিভারি বর্ষণ আরও ঘন ঘন ঘটবে, তাই এই জলাবদ্ধতাকে বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার জলাবদ্ধতার পেছনে প্রধান কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা ও জলাশয় ভরাট এবং অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। একসময় রাজধানীতে থাকা অসংখ্য খাল, বিল ও জলাধার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে ভূমিকা রাখলেও দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি, ড্রেনের ধারণক্ষমতা বর্তমান জনসংখ্যার তুলনায় অপর্যাপ্ত এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, পলিমাটি ও বর্জ্য জমে থাকা এবং অপরিকল্পিত ইউটিলিটি লাইনের কারণে পানি দ্রুত সরছে না। দুই সিটি করপোরেশন পাম্প চালু করা ও ড্রেন পরিষ্কারের মতো জরুরি উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।

জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল, নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধার করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী পাম্পিং স্টেশন স্থাপন সময়ের দাবি। এছাড়া নতুন নগর উন্নয়ন প্রকল্পে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। নাগরিকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতন হওয়া এবং সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা অপরিহার্য। এই জলাবদ্ধতা শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আধুনিক ড্রেনেজ ও স্মার্ট সিটি পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকাকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনে ত্রাণ কেন্দ্রে রুশ বিমান হামলা, নিহত ২৬

ঢাকায় জলাবদ্ধতা: অপরিকল্পিত নগরায়ণের চরম খেসারত দিচ্ছে নগরবাসী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

রাজধানী ঢাকায় একদিনের ভারি বর্ষণেই জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সড়ক, অলিগলি, আবাসিক এলাকা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলমগ্ন সড়কে আটকা পড়েছেন, এমনকি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পায়নি। অনেক জায়গায় যানবাহন বিকল হয়ে পড়েছে এবং মানুষকে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে এবং অনেক স্কুল-কলেজ পুনরায় অনলাইন ক্লাসে ফিরে গেছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটেছে। এছাড়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিলম্ব, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এমন অতিভারি বর্ষণ আরও ঘন ঘন ঘটবে, তাই এই জলাবদ্ধতাকে বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার জলাবদ্ধতার পেছনে প্রধান কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা ও জলাশয় ভরাট এবং অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। একসময় রাজধানীতে থাকা অসংখ্য খাল, বিল ও জলাধার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে ভূমিকা রাখলেও দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি, ড্রেনের ধারণক্ষমতা বর্তমান জনসংখ্যার তুলনায় অপর্যাপ্ত এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, পলিমাটি ও বর্জ্য জমে থাকা এবং অপরিকল্পিত ইউটিলিটি লাইনের কারণে পানি দ্রুত সরছে না। দুই সিটি করপোরেশন পাম্প চালু করা ও ড্রেন পরিষ্কারের মতো জরুরি উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।

জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল, নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধার করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী পাম্পিং স্টেশন স্থাপন সময়ের দাবি। এছাড়া নতুন নগর উন্নয়ন প্রকল্পে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। নাগরিকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতন হওয়া এবং সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা অপরিহার্য। এই জলাবদ্ধতা শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আধুনিক ড্রেনেজ ও স্মার্ট সিটি পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকাকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন।