লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে গত জুনের শেষ সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে মোট ১০ হাজার ৬৫০ জন অতিরিক্ত মৃত্যুবরণ করেছেন, যার মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের এই সময়ে এত বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত মৃত্যু অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং এর প্রধান কারণ ছিল তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমে শরীরে তাপঘাত, পানিশূন্যতা এবং হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা বৃদ্ধির কারণে প্রবীণ, দীর্ঘমেয়াদি রোগী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে মৃত্যুহার ছিল সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে বেলজিয়ামে গত পঁচিশ বছরের মধ্যে কোনো তাপপ্রবাহে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

তীব্র দাবদাহের ফলে ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মে ও জুন মাসের এই তাপপ্রবাহে শুধু ইংল্যান্ড ও ওয়েলসেই প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দায়ী করছেন গবেষকরা।

বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ইউরোপে তাপপ্রবাহের মাত্রা ও স্থায়িত্ব ক্রমাগত বাড়ছে; জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্ভাবনা খুবই কম ছিল। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নীতিসুদ ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ইউরোপজুড়ে গত জুনের শেষ সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে মোট ১০ হাজার ৬৫০ জন অতিরিক্ত মৃত্যুবরণ করেছেন, যার মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের এই সময়ে এত বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত মৃত্যু অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং এর প্রধান কারণ ছিল তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমে শরীরে তাপঘাত, পানিশূন্যতা এবং হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা বৃদ্ধির কারণে প্রবীণ, দীর্ঘমেয়াদি রোগী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে মৃত্যুহার ছিল সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে বেলজিয়ামে গত পঁচিশ বছরের মধ্যে কোনো তাপপ্রবাহে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

তীব্র দাবদাহের ফলে ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মে ও জুন মাসের এই তাপপ্রবাহে শুধু ইংল্যান্ড ও ওয়েলসেই প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দায়ী করছেন গবেষকরা।

বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ইউরোপে তাপপ্রবাহের মাত্রা ও স্থায়িত্ব ক্রমাগত বাড়ছে; জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্ভাবনা খুবই কম ছিল। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।