লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী তিন দিনে ১২ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস

দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, তিস্তাসহ দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এই সময়ের মধ্যে তিস্তাসহ বেশ কিছু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে দেশের ১২টি জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন কোনো নদীর পানিই বিপৎসীমার ওপরে নেই। দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বেড়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ভারতের উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় থাকা মৌসুমি নিম্নচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফে ১৫৮ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১০২ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ১০১ মিলিমিটারসহ বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একইসাথে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশের উজানের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে তা প্রভাব ফেলছে।

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা ঘটাতে পারে। ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু স্থানে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে; ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী তিন দিন কমে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে এবং পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়

আগামী তিন দিনে ১২ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৫৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, তিস্তাসহ দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এই সময়ের মধ্যে তিস্তাসহ বেশ কিছু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে দেশের ১২টি জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন কোনো নদীর পানিই বিপৎসীমার ওপরে নেই। দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বেড়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ভারতের উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় থাকা মৌসুমি নিম্নচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফে ১৫৮ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১০২ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ১০১ মিলিমিটারসহ বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একইসাথে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশের উজানের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে তা প্রভাব ফেলছে।

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা ঘটাতে পারে। ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু স্থানে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে; ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী তিন দিন কমে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে এবং পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।