লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুলিস্তানে সড়কের ওপর বাস পার্কিং, পুলিশের দায়সারা উত্তরে ভোগান্তিতে নগরবাসী

রাজধানীর বঙ্গবাজার থেকে গুলিস্তান মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে বাস পার্কিংয়ের কারণে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। দায়িত্বরত পুলিশের কাছে প্রতিকার চেয়ে উল্টো হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

রাজধানীর বঙ্গবাজার মোড়ে তীব্র যানজটে আটকা পড়ে গন্তব্যের পথ খুঁজছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজীর হোসাইন। সড়কের দুই পাশে বাস দাঁড়িয়ে থাকায় চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। গত ৩১ আগস্ট দুপুরের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তানজীর দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে প্রশ্ন করেন, কেন সড়কে এভাবে বাস পার্কিং করা হচ্ছে। উত্তরে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমরা পারি না, আপনি একটু বাইক থেকে নাইম্যা বাসগুলো সরায়া দ্যান।’ এমন গা–ছাড়া ও অসংবেদনশীল জবাবে তানজীর হোসাইন চরম হতাশা প্রকাশ করেন।

বঙ্গবাজার থেকে গুলিস্তান মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার সড়কের দুই পাশ কার্যত বাসের স্থায়ী পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ উড়ালসড়কের নিচে এই দীর্ঘ অংশে অন্তত ৭৪টি বাস পার্কিং করে রাখা হয়েছে। শুধু বাস দাঁড় করিয়ে রাখাই নয়, বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বাসের স্থান নির্ধারণ ও পার্কিং নিয়ন্ত্রণে সেখানে লাইনম্যানও কাজ করছেন। ব্যস্ত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন, কিন্তু দিনের পর দিন এমন অব্যবস্থাপনা চললেও তা বন্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এই অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন বেসরকারি সংস্থার কর্মী শাহাদাত হোসেন। গুলিস্তান মোড়ে উড়ালসড়কের নিচে মোটরসাইকেল রেখে টয়লেটে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে দেখেন, বাস পার্কিংয়ের লাইনম্যান খাইরুল তাঁর বাইক নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। শাহাদাত জানান, পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং পার্কিংয়ের টাকা দাবি করে মারমুখী আচরণ করা হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্যস্ত সড়কের জায়গা কীভাবে একটি গোষ্ঠী নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ব্যবহার করছে, আর তা দেখার কেউ নেই?

গুলিস্তান এলাকাটি শুধুমাত্র বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক নয়, এটি রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল দিয়ে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১৭ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে বাসের চাপ বেড়েছে, আর পাইকারি পণ্যের বাজারের কারণেও এলাকাটিতে সব সময় ভিড় থাকে। জাকের সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী হায়দার আলী জানান, মার্কেটের সামনের সড়কে বাস পার্কিং করে রাখায় ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন, যা ব্যবসায়ীদের জন্যও বড় সমস্যা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের (ট্রাফিক) অতিরিক্ত কমিশনার এহসানুল কামরান তানভীর স্বীকার করেছেন যে বাস পার্কিংয়ের কারণেই এলাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, মাঝে ডিসি স্যার এটি বন্ধ করেছিলেন, তবে আবার তা শুরু হয়েছে। এছাড়া তিনি জানান, সরকার আগামী চার মাসের মধ্যে টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সমস্যার সমাধান হবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর যানজট কমাতে গত ১৫ জুন এবং ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তানসহ চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী চার মাসের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩ জনের হাতে চেক তুলে দিলেন মন্ত্রী

গুলিস্তানে সড়কের ওপর বাস পার্কিং, পুলিশের দায়সারা উত্তরে ভোগান্তিতে নগরবাসী

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩২:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বঙ্গবাজার মোড়ে তীব্র যানজটে আটকা পড়ে গন্তব্যের পথ খুঁজছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজীর হোসাইন। সড়কের দুই পাশে বাস দাঁড়িয়ে থাকায় চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। গত ৩১ আগস্ট দুপুরের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তানজীর দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে প্রশ্ন করেন, কেন সড়কে এভাবে বাস পার্কিং করা হচ্ছে। উত্তরে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমরা পারি না, আপনি একটু বাইক থেকে নাইম্যা বাসগুলো সরায়া দ্যান।’ এমন গা–ছাড়া ও অসংবেদনশীল জবাবে তানজীর হোসাইন চরম হতাশা প্রকাশ করেন।

বঙ্গবাজার থেকে গুলিস্তান মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার সড়কের দুই পাশ কার্যত বাসের স্থায়ী পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ উড়ালসড়কের নিচে এই দীর্ঘ অংশে অন্তত ৭৪টি বাস পার্কিং করে রাখা হয়েছে। শুধু বাস দাঁড় করিয়ে রাখাই নয়, বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বাসের স্থান নির্ধারণ ও পার্কিং নিয়ন্ত্রণে সেখানে লাইনম্যানও কাজ করছেন। ব্যস্ত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন, কিন্তু দিনের পর দিন এমন অব্যবস্থাপনা চললেও তা বন্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এই অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন বেসরকারি সংস্থার কর্মী শাহাদাত হোসেন। গুলিস্তান মোড়ে উড়ালসড়কের নিচে মোটরসাইকেল রেখে টয়লেটে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে দেখেন, বাস পার্কিংয়ের লাইনম্যান খাইরুল তাঁর বাইক নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। শাহাদাত জানান, পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং পার্কিংয়ের টাকা দাবি করে মারমুখী আচরণ করা হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্যস্ত সড়কের জায়গা কীভাবে একটি গোষ্ঠী নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ব্যবহার করছে, আর তা দেখার কেউ নেই?

গুলিস্তান এলাকাটি শুধুমাত্র বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক নয়, এটি রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল দিয়ে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১৭ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে বাসের চাপ বেড়েছে, আর পাইকারি পণ্যের বাজারের কারণেও এলাকাটিতে সব সময় ভিড় থাকে। জাকের সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী হায়দার আলী জানান, মার্কেটের সামনের সড়কে বাস পার্কিং করে রাখায় ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন, যা ব্যবসায়ীদের জন্যও বড় সমস্যা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের (ট্রাফিক) অতিরিক্ত কমিশনার এহসানুল কামরান তানভীর স্বীকার করেছেন যে বাস পার্কিংয়ের কারণেই এলাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, মাঝে ডিসি স্যার এটি বন্ধ করেছিলেন, তবে আবার তা শুরু হয়েছে। এছাড়া তিনি জানান, সরকার আগামী চার মাসের মধ্যে টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সমস্যার সমাধান হবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর যানজট কমাতে গত ১৫ জুন এবং ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তানসহ চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী চার মাসের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।