লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইরান? সামরিক কাঠামোয় বড় রদবদল

ইরানের সামরিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে ছয়জন অভিজ্ঞ কমান্ডারকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান তার যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

সোমবার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিকে মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় নিহত মোহাম্মদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ওয়াহিদির ডেপুটি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মোস্তফা ইজাদি। এছাড়া মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহিকে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়োমার্স হেইদারিকে তার ডেপুটি করা হয়েছে। আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার হয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি ওজমাই এবং বাসিজ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হোসেইন তাইয়েব। বাসিজ সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি আধাসামরিক বাহিনী।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া এই ছয় কমান্ডার সাম্প্রতিক দুটি যুদ্ধে নিজেদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়েছেন। এর আগে রোববার সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার-ইন-চিফ মোহসেন রেজায়িকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব এবং মোজতবা খামেনির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি ভায়েজের মতে, এসব নিয়োগের লক্ষ্য শুধু দুর্বলতা সংশোধন নয়, বরং মোজতবার কর্তৃত্ব সুসংহত করা।

মোজতবা খামেনি আইআরজিসির কমান্ডার হিসেবে ওয়াহিদিকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াহিদির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তেহরান ভবিষ্যতে কোনো হামলার শিকার হলে আরও দ্রুত ও সমন্বিত পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হবে। দোহা ইনস্টিটিউটের মুহানাদ সেলুমের মতে, নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা আইআরজিসির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রজন্মের প্রতিনিধি এবং তারা সর্বোচ্চ নেতার অত্যন্ত আস্থাভাজন। আইআরজিসির শুরুর সময় থেকেই ওয়াহিদি এই বাহিনীর সঙ্গে রয়েছেন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া ১৯৮৮, ১৯৯৭, ১৯৯৮ এবং ২০২০ সালের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত সংকটে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনা তুসির মতে, ইরান প্রতিরোধনীতির ধারণা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এই নিয়োগগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান যুদ্ধের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে মোহসেন রেজায়ির নিয়োগ ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সেলুমের মতে, ইরান আক্রমণাত্মক অবস্থানের কথা বললেও এর অর্থ এই নয় যে দেশটি বাস্তবে বড় কোনো সামরিক অভিযান চালাবে; বরং এটি আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বিষয়টি মাথা থেকে বের করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বড় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইরান? সামরিক কাঠামোয় বড় রদবদল

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সামরিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে ছয়জন অভিজ্ঞ কমান্ডারকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান তার যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

সোমবার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিকে মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় নিহত মোহাম্মদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ওয়াহিদির ডেপুটি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মোস্তফা ইজাদি। এছাড়া মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহিকে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়োমার্স হেইদারিকে তার ডেপুটি করা হয়েছে। আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার হয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি ওজমাই এবং বাসিজ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হোসেইন তাইয়েব। বাসিজ সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি আধাসামরিক বাহিনী।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া এই ছয় কমান্ডার সাম্প্রতিক দুটি যুদ্ধে নিজেদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়েছেন। এর আগে রোববার সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার-ইন-চিফ মোহসেন রেজায়িকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব এবং মোজতবা খামেনির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি ভায়েজের মতে, এসব নিয়োগের লক্ষ্য শুধু দুর্বলতা সংশোধন নয়, বরং মোজতবার কর্তৃত্ব সুসংহত করা।

মোজতবা খামেনি আইআরজিসির কমান্ডার হিসেবে ওয়াহিদিকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াহিদির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তেহরান ভবিষ্যতে কোনো হামলার শিকার হলে আরও দ্রুত ও সমন্বিত পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হবে। দোহা ইনস্টিটিউটের মুহানাদ সেলুমের মতে, নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা আইআরজিসির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রজন্মের প্রতিনিধি এবং তারা সর্বোচ্চ নেতার অত্যন্ত আস্থাভাজন। আইআরজিসির শুরুর সময় থেকেই ওয়াহিদি এই বাহিনীর সঙ্গে রয়েছেন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া ১৯৮৮, ১৯৯৭, ১৯৯৮ এবং ২০২০ সালের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত সংকটে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনা তুসির মতে, ইরান প্রতিরোধনীতির ধারণা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এই নিয়োগগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান যুদ্ধের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে মোহসেন রেজায়ির নিয়োগ ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সেলুমের মতে, ইরান আক্রমণাত্মক অবস্থানের কথা বললেও এর অর্থ এই নয় যে দেশটি বাস্তবে বড় কোনো সামরিক অভিযান চালাবে; বরং এটি আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে।