লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি হলেও এখনই খুলছে না হরমুজ প্রণালি

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি রয়েছে ইরান। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, কেবল এই সমঝোতার মাধ্যমেই কৌশলগত এই নৌপথটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে না। শনিবার তেহরান তাদের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসানে একটি বৃহত্তর চুক্তি প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। এই যুদ্ধের জের ধরেই ইরান বিশ্ববাজারে জ্বালানি রপ্তানির অন্যতম প্রধান এই নৌপথটিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ওমানের সঙ্গে বর্তমান আলোচনাকে এই বৃহত্তর চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আশা করছে ইরান ও ওমানের মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি হবে, যা তেলের স্বাভাবিক পরিবহন পুনরায় শুরু করতে সহায়তা করবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের একটি নতুন রুট নিয়ে চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে ইরান। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন যে, এই পথ পুনরায় খোলার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদর জানিয়েছেন, এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও আগ্রাসন বন্ধ করা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা।

ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হয়েছে। তারা সব পক্ষকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে যা আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের আগের নিয়ম তেহরানের কাছে এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। একটি স্থায়ী রুটের আইনি ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইরান একটি অস্থায়ী রুট নিয়ে আলোচনা করছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, চুক্তি করার জন্য এখনই সেরা সময়। ইরানের বার্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেন এই যুদ্ধে ইরান বিজয়ী ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ভিন্ন সুর তুলেছে। তাদের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন, প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ওমান-ইরান আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এটি সরাসরি ওয়াশিংটনের ইরানের শর্ত মানার ওপর নির্ভর করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির একটি জাহাজে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যদিও এতে কেউ হতাহত হয়নি। এর আগে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য নজরদারি সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি জাহাজে আগুন ধরেছিল যা পরে নেভানো সম্ভব হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বর্তমান অবরোধের মধ্যে তারা ৩০টিরও বেশি মানবিক সহায়তার জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিলেও ৫৩টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে, দুটি জাহাজ বিকল করেছে এবং অন্য দুটিতে তল্লাশি চালিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন মতিউর, জিজ্ঞাসাবাদে বললেন মোজাফফর

ওমানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি হলেও এখনই খুলছে না হরমুজ প্রণালি

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি রয়েছে ইরান। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, কেবল এই সমঝোতার মাধ্যমেই কৌশলগত এই নৌপথটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে না। শনিবার তেহরান তাদের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসানে একটি বৃহত্তর চুক্তি প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। এই যুদ্ধের জের ধরেই ইরান বিশ্ববাজারে জ্বালানি রপ্তানির অন্যতম প্রধান এই নৌপথটিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ওমানের সঙ্গে বর্তমান আলোচনাকে এই বৃহত্তর চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আশা করছে ইরান ও ওমানের মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি হবে, যা তেলের স্বাভাবিক পরিবহন পুনরায় শুরু করতে সহায়তা করবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের একটি নতুন রুট নিয়ে চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে ইরান। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন যে, এই পথ পুনরায় খোলার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদর জানিয়েছেন, এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও আগ্রাসন বন্ধ করা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা।

ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হয়েছে। তারা সব পক্ষকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে যা আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের আগের নিয়ম তেহরানের কাছে এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। একটি স্থায়ী রুটের আইনি ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইরান একটি অস্থায়ী রুট নিয়ে আলোচনা করছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, চুক্তি করার জন্য এখনই সেরা সময়। ইরানের বার্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেন এই যুদ্ধে ইরান বিজয়ী ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ভিন্ন সুর তুলেছে। তাদের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন, প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ওমান-ইরান আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এটি সরাসরি ওয়াশিংটনের ইরানের শর্ত মানার ওপর নির্ভর করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির একটি জাহাজে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যদিও এতে কেউ হতাহত হয়নি। এর আগে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য নজরদারি সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি জাহাজে আগুন ধরেছিল যা পরে নেভানো সম্ভব হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বর্তমান অবরোধের মধ্যে তারা ৩০টিরও বেশি মানবিক সহায়তার জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিলেও ৫৩টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে, দুটি জাহাজ বিকল করেছে এবং অন্য দুটিতে তল্লাশি চালিয়েছে।