লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজা নাকদি। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।

নাকদির দাবি, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরানের সামরিক বাহিনী তত বেশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা গত কয়েক মাসে ইরান অর্জন করেছে। ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এই সংঘাত দীর্ঘায়িত করা ইরানের কৌশলের অংশ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে তোলা সম্ভব এবং ভবিষ্যতে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করা যেকোনো দেশ সম্ভাব্য বড় পরিণতির কথা ভেবে দ্বিধায় পড়বে।

সাক্ষাৎকারে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নাকদি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিলে তা তাদের জন্য বড় ভুল হবে। সেক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয় এবং পারমাণবিক হামলা আন্তর্জাতিকভাবে সহজে গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো চিন্তা করছে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান প্রসঙ্গে নাকদি জানান, এই বক্তব্য মার্কিন সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশটির সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যারা বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ ও নীতি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তেহরান শুধু বর্তমান সংঘাত নয়, বরং ভবিষ্যতে যে কোনো শক্তির সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বিষয়টি মাথা থেকে বের করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি ইরানের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:২২:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজা নাকদি। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।

নাকদির দাবি, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরানের সামরিক বাহিনী তত বেশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা গত কয়েক মাসে ইরান অর্জন করেছে। ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এই সংঘাত দীর্ঘায়িত করা ইরানের কৌশলের অংশ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে তোলা সম্ভব এবং ভবিষ্যতে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করা যেকোনো দেশ সম্ভাব্য বড় পরিণতির কথা ভেবে দ্বিধায় পড়বে।

সাক্ষাৎকারে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নাকদি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিলে তা তাদের জন্য বড় ভুল হবে। সেক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয় এবং পারমাণবিক হামলা আন্তর্জাতিকভাবে সহজে গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো চিন্তা করছে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান প্রসঙ্গে নাকদি জানান, এই বক্তব্য মার্কিন সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশটির সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যারা বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ ও নীতি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তেহরান শুধু বর্তমান সংঘাত নয়, বরং ভবিষ্যতে যে কোনো শক্তির সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।