লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান ঘিরে উত্তেজনায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরির প্রভাবে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারো বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ সেন্ট বা ০.১ শতাংশ বেড়ে ৮৭.১৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১.২৯ ডলার।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ২ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছিল। তবে ব্রেন্ট ক্রুড টানা ছয় সেশন এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড টানা পাঁচ সেশন বাড়ার পর চলতি সপ্তাহে উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে।

এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বাসিজ প্রধান হোসেইন তাইয়েব দাবি করেছেন হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যা দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

তবে তেলের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, বাজারে বর্তমানে দুটি বিপরীতমুখী শক্তি কাজ করছে। একদিকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দামকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ও ওপেক-এর চাহিদার পূর্বাভাস দুর্বল হওয়ায় দাম খুব বেশি বাড়তে পারছে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক বৃদ্ধির বিষয়টিও দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) দুটি জাহাজে হামলা হয়েছে। আমিরাত সরকার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে, যা ওই অঞ্চলে হরমুজ প্রণালি ও বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজকীয় ক্ষমা পেতে পারেন নাজিব রাজাক, মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে চাঞ্চল্য

ইরান ঘিরে উত্তেজনায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরির প্রভাবে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারো বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ সেন্ট বা ০.১ শতাংশ বেড়ে ৮৭.১৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১.২৯ ডলার।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ২ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছিল। তবে ব্রেন্ট ক্রুড টানা ছয় সেশন এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড টানা পাঁচ সেশন বাড়ার পর চলতি সপ্তাহে উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে।

এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বাসিজ প্রধান হোসেইন তাইয়েব দাবি করেছেন হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যা দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

তবে তেলের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, বাজারে বর্তমানে দুটি বিপরীতমুখী শক্তি কাজ করছে। একদিকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দামকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ও ওপেক-এর চাহিদার পূর্বাভাস দুর্বল হওয়ায় দাম খুব বেশি বাড়তে পারছে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক বৃদ্ধির বিষয়টিও দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) দুটি জাহাজে হামলা হয়েছে। আমিরাত সরকার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে, যা ওই অঞ্চলে হরমুজ প্রণালি ও বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।