লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলা কবিতার অবিস্মরণীয় নাম আল মুজাহিদীকে স্মরণ

বাংলা কবিতার জগতে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় নাম কবি আল মুজাহিদী। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবন নিয়ে সম্প্রতি বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত এই কবির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সেমিনারে ‘মৃত্তিকার কবি আল মুজাহিদী’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও প্রাবন্ধিক ড. মাহবুব হাসান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আল মুজাহিদীর বহুমুখী প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, আল মুজাহিদী কেবল একজন কবিই ছিলেন না, বরং তিনি একাধারে অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বাংলা কবিতায় দেশজ আধুনিকতার পাশাপাশি বিদেশি পুরাণের মানবিক মৈত্রীর সুর ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। বিশেষ করে শিশু-কিশোর সাহিত্য এবং বিভিন্ন ভাষার কবিতা বাংলায় অনুবাদের ক্ষেত্রেও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

আল মুজাহিদীর কাব্যযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর মানবতাবিরোধী সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা। ১৯৬৩ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে বসে লেখা ‘কাঁদো হিরোশিমা, কাঁদো নাগাসাকি’র মাধ্যমে শুরু হওয়া তাঁর এই প্রতিবাদী কাব্যধারা ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বক্তারা তাঁকে ‘মৃত্তিকার কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তাঁর কবিতায় এদেশের মাটি ও মানুষের কথা অসাধারণ নৈপুণ্যে ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর কলমকে মানব ইতিহাসের হিংস্র নগ্নতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন।

দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক-এর সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আল মুজাহিদী বহু প্রতিভাবান লেখকের সাহিত্যপথের দিশা হয়ে কাজ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান কিংবদন্তিতুল্য। তাঁর কন্যা পরমা আল মুজাহিদী অনুষ্ঠানে বলেন, বাবা সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের কথা তাঁর কবিতায় তুলে ধরেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য ভাষা, সাহিত্য ও দেশপ্রেমের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিচারপতি শাহিদুর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক

বাংলা কবিতার অবিস্মরণীয় নাম আল মুজাহিদীকে স্মরণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা কবিতার জগতে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় নাম কবি আল মুজাহিদী। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবন নিয়ে সম্প্রতি বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত এই কবির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সেমিনারে ‘মৃত্তিকার কবি আল মুজাহিদী’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও প্রাবন্ধিক ড. মাহবুব হাসান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আল মুজাহিদীর বহুমুখী প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, আল মুজাহিদী কেবল একজন কবিই ছিলেন না, বরং তিনি একাধারে অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বাংলা কবিতায় দেশজ আধুনিকতার পাশাপাশি বিদেশি পুরাণের মানবিক মৈত্রীর সুর ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। বিশেষ করে শিশু-কিশোর সাহিত্য এবং বিভিন্ন ভাষার কবিতা বাংলায় অনুবাদের ক্ষেত্রেও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

আল মুজাহিদীর কাব্যযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর মানবতাবিরোধী সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা। ১৯৬৩ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে বসে লেখা ‘কাঁদো হিরোশিমা, কাঁদো নাগাসাকি’র মাধ্যমে শুরু হওয়া তাঁর এই প্রতিবাদী কাব্যধারা ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বক্তারা তাঁকে ‘মৃত্তিকার কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তাঁর কবিতায় এদেশের মাটি ও মানুষের কথা অসাধারণ নৈপুণ্যে ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর কলমকে মানব ইতিহাসের হিংস্র নগ্নতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন।

দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক-এর সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আল মুজাহিদী বহু প্রতিভাবান লেখকের সাহিত্যপথের দিশা হয়ে কাজ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান কিংবদন্তিতুল্য। তাঁর কন্যা পরমা আল মুজাহিদী অনুষ্ঠানে বলেন, বাবা সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের কথা তাঁর কবিতায় তুলে ধরেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য ভাষা, সাহিত্য ও দেশপ্রেমের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।