লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানালেন রুহুল কবির রিজভী

প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার নয়াপল্টনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি সদ্যপ্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এই আহ্বান জানান।

দোয়া মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপিসহ যুবদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকটময় সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের অবসান এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এটিই প্রমাণ করে যে, কারও শ্রম বা আত্মদান কখনো বৃথা যায় না। তিনি যুবদলের প্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এই বিপ্লবেরই সন্তান। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই দলটির জন্ম হয়েছিল। তাই বিএনপির মধ্যে বিপ্লবের শক্তি অন্তর্নিহিত রয়েছে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ন্যায়ের শূন্যতা একদিন নানা কিছু দিয়ে পূরণ হবে, তাই হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই।

রিজভী আরও বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত ১৭ বছর বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম এবং তারেক রহমানের অটুট নেতৃত্বের কারণে দেশে আজ গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। নানা চক্রান্ত সত্ত্বেও দল কোনো আপসকামিতা বা গোপন আঁতাত করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার সুফল মানুষ পেলে জাকির হোসেন নান্নুর মতো মানুষের আত্মদান সার্থক হবে।

বিগত প্রহসনের নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া হতাশা কাটিয়ে এই বিজয়কে বড় অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেন রিজভী। এছাড়া তিনি ৪৫ বছর পর শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যাকারী মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর তৎকালীন অবস্থান এবং জুলাই আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে মিলে গুলি চালানো আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী যারা ভারতে পালিয়ে গেছে, তাদের আশ্রয়দাতা কারা—সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিটি করপোরেশন হচ্ছে কক্সবাজার, শুরু হলো প্রশাসনিক কার্যক্রম

নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানালেন রুহুল কবির রিজভী

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার নয়াপল্টনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি সদ্যপ্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এই আহ্বান জানান।

দোয়া মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপিসহ যুবদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকটময় সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের অবসান এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এটিই প্রমাণ করে যে, কারও শ্রম বা আত্মদান কখনো বৃথা যায় না। তিনি যুবদলের প্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এই বিপ্লবেরই সন্তান। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই দলটির জন্ম হয়েছিল। তাই বিএনপির মধ্যে বিপ্লবের শক্তি অন্তর্নিহিত রয়েছে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ন্যায়ের শূন্যতা একদিন নানা কিছু দিয়ে পূরণ হবে, তাই হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই।

রিজভী আরও বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত ১৭ বছর বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম এবং তারেক রহমানের অটুট নেতৃত্বের কারণে দেশে আজ গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। নানা চক্রান্ত সত্ত্বেও দল কোনো আপসকামিতা বা গোপন আঁতাত করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার সুফল মানুষ পেলে জাকির হোসেন নান্নুর মতো মানুষের আত্মদান সার্থক হবে।

বিগত প্রহসনের নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া হতাশা কাটিয়ে এই বিজয়কে বড় অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেন রিজভী। এছাড়া তিনি ৪৫ বছর পর শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যাকারী মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর তৎকালীন অবস্থান এবং জুলাই আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে মিলে গুলি চালানো আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী যারা ভারতে পালিয়ে গেছে, তাদের আশ্রয়দাতা কারা—সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।