লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে দেশ ছাড়লেন সেরনিয়াবাত খোকন

বৈষম্যবিরোধী গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক আগমুহূর্তে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাত ১২টায় বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন খোকন আব্দুল্লাহ। ৩ ঘণ্টা চলে প্রস্তুতি। ওই রাতে তার বাসায় থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, ওই ৩ ঘণ্টায় ঘরে থাকা নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরেন তিনি। তাকে সহায়তা করা তৎকালীন এপিএস রুবেলের কাছে পরে জানা যায় যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ছিল সেখানে। তবে কোনো কাপড়চোপড় সঙ্গে নেননি তিনি।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও কেবল শেখ পরিবারের কোটায় লোকদেখানো নির্বাচন করে মেয়র বানানো হয় খোকনকে। মাত্র ৭ মাসের দায়িত্ব পালনকালে নানাভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক। মেয়র হওয়ার পর থেকে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যত টাকা হাতিয়েছেন, তার সিংহভাগ সিঙ্গাপুরে খোলা নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে পাচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

বরিশাল থেকে তিনি খুলনায় গিয়ে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাসায় আশ্রয় নেন। খুলনায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও তিনি থেমে থাকেননি। বিসিসির বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি টাকার চেকে ব্যাক ডেটে সই করেন তিনি। এই কাজে তাকে সহায়তা করেন তার তৎকালীন এপিএস রুবেল এবং বিসিসির প্রকৌশল ও হিসাব শাখার দুই কর্মকর্তা। চেক সই করার বিনিময়ে তিনি বিলের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

খুলনা থেকে চারবার ব্যর্থ চেষ্টার পর, ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। আসাম ও গুয়াহাটি হয়ে তিনি কলকাতায় পৌঁছান এবং স্ত্রীকে নিয়ে নিউ টাউন অ্যাকশন এরিয়া-১-এর কাছে ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন। সেখানে ১ মাসের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া নেন খোকন। ৫ নভেম্বর এই দম্পতিকে কলকাতার এক্সেস মলে দেখা গেছে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থান করছেন এবং ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে সেখানে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিটি করপোরেশন হচ্ছে কক্সবাজার, শুরু হলো প্রশাসনিক কার্যক্রম

গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে দেশ ছাড়লেন সেরনিয়াবাত খোকন

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক আগমুহূর্তে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাত ১২টায় বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন খোকন আব্দুল্লাহ। ৩ ঘণ্টা চলে প্রস্তুতি। ওই রাতে তার বাসায় থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, ওই ৩ ঘণ্টায় ঘরে থাকা নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরেন তিনি। তাকে সহায়তা করা তৎকালীন এপিএস রুবেলের কাছে পরে জানা যায় যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ছিল সেখানে। তবে কোনো কাপড়চোপড় সঙ্গে নেননি তিনি।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও কেবল শেখ পরিবারের কোটায় লোকদেখানো নির্বাচন করে মেয়র বানানো হয় খোকনকে। মাত্র ৭ মাসের দায়িত্ব পালনকালে নানাভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক। মেয়র হওয়ার পর থেকে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যত টাকা হাতিয়েছেন, তার সিংহভাগ সিঙ্গাপুরে খোলা নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে পাচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

বরিশাল থেকে তিনি খুলনায় গিয়ে প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাসায় আশ্রয় নেন। খুলনায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও তিনি থেমে থাকেননি। বিসিসির বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি টাকার চেকে ব্যাক ডেটে সই করেন তিনি। এই কাজে তাকে সহায়তা করেন তার তৎকালীন এপিএস রুবেল এবং বিসিসির প্রকৌশল ও হিসাব শাখার দুই কর্মকর্তা। চেক সই করার বিনিময়ে তিনি বিলের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

খুলনা থেকে চারবার ব্যর্থ চেষ্টার পর, ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। আসাম ও গুয়াহাটি হয়ে তিনি কলকাতায় পৌঁছান এবং স্ত্রীকে নিয়ে নিউ টাউন অ্যাকশন এরিয়া-১-এর কাছে ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন। সেখানে ১ মাসের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া নেন খোকন। ৫ নভেম্বর এই দম্পতিকে কলকাতার এক্সেস মলে দেখা গেছে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থান করছেন এবং ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে সেখানে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন।