লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন: রেকর্ডের ভিড়ে ফ্রান্সের করুণ বিদায়

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২–০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে স্পেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের এই জয়ে যেমন নতুন রেকর্ডের হাতছানি তৈরি হয়েছে, তেমনি ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটি ছিল পরিসংখ্যানগত দিক থেকে চরম হতাশার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে স্পেন এক আসরে ৬ ম্যাচে কোনো গোল হজম না করে ‘ক্লিন শিট’ রাখার অনন্য কীর্তি গড়েছে। ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। এবার চ্যাম্পিয়ন হলে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় দল হবে তারা, যা এর আগে কেবল স্পেন (২০০৮ ইউরো ও ২০১০ বিশ্বকাপ) এবং পশ্চিম জার্মানি (১৯৭২ ইউরো ও ১৯৭৪ বিশ্বকাপ) অর্জন করেছিল।

স্পেনের কাছে এই হারের ফলে ফ্রান্স টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারাল। এর আগে পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০) ও ব্রাজিলের (১৯৯৪-২০০২) পর তৃতীয় দল হিসেবে ফরাসিরা এই হতাশাজনক রেকর্ডের অংশ হলো। তাছাড়া সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে সর্বশেষ ১১ ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই হেরেছে ফ্রান্স। স্পেনের বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে সর্বশেষ পাঁচ দেখায় চারটিতেই জয় পেয়েছে স্পেন। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয়। এর আগে ১৯৮৬ সালের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে তারা ২-০ গোলে হেরেছিল। এই হারের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের টানা ৬ ম্যাচ জয়ের ধারারও ইতি ঘটল, যা তাদের ইতিহাসে দীর্ঘতম ছিল।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ম্যাচটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ২২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে মিকেল ওইয়ারসাবাল এই বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোলটি পূর্ণ করেছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে এমিলিও বুত্রাগেনিও এবং ২০১০ সালে দাভিদ ভিয়া এই কীর্তি গড়েছিলেন। ৫৮তম মিনিটে গোল করা পেদ্রো পোরো গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একাধিক গোল করা পঞ্চম ডিফেন্ডার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপ্পে এই ম্যাচে একবারও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি, যা ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের পর তার জন্য প্রথম ঘটনা।

স্পেন তাদের নকআউট পর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০০৬ সালের পর থেকে টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে। সব মিলিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার গৌরব অর্জন করেছে, যা ইউরোপের কোনো পুরুষ জাতীয় দলের হিসেবে ইতালির (২০১৮-২০২১) রেকর্ডের সমান।

এই সময়ে স্পেনের একমাত্র হারটি ২০২১ সালে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে।.৫.মিকেল ওইয়ারসাবাল পেনাল্টি থেকে ২২তম মিনিটে গোল করে এই বিশ্বকাপে নিজের ৫ম গোলটি করেছেন।

২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইতালিও টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন: রেকর্ডের ভিড়ে ফ্রান্সের করুণ বিদায়

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২–০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে স্পেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের এই জয়ে যেমন নতুন রেকর্ডের হাতছানি তৈরি হয়েছে, তেমনি ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটি ছিল পরিসংখ্যানগত দিক থেকে চরম হতাশার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে স্পেন এক আসরে ৬ ম্যাচে কোনো গোল হজম না করে ‘ক্লিন শিট’ রাখার অনন্য কীর্তি গড়েছে। ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। এবার চ্যাম্পিয়ন হলে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় দল হবে তারা, যা এর আগে কেবল স্পেন (২০০৮ ইউরো ও ২০১০ বিশ্বকাপ) এবং পশ্চিম জার্মানি (১৯৭২ ইউরো ও ১৯৭৪ বিশ্বকাপ) অর্জন করেছিল।

স্পেনের কাছে এই হারের ফলে ফ্রান্স টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারাল। এর আগে পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০) ও ব্রাজিলের (১৯৯৪-২০০২) পর তৃতীয় দল হিসেবে ফরাসিরা এই হতাশাজনক রেকর্ডের অংশ হলো। তাছাড়া সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে সর্বশেষ ১১ ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই হেরেছে ফ্রান্স। স্পেনের বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে সর্বশেষ পাঁচ দেখায় চারটিতেই জয় পেয়েছে স্পেন। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয়। এর আগে ১৯৮৬ সালের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে তারা ২-০ গোলে হেরেছিল। এই হারের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের টানা ৬ ম্যাচ জয়ের ধারারও ইতি ঘটল, যা তাদের ইতিহাসে দীর্ঘতম ছিল।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ম্যাচটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ২২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে মিকেল ওইয়ারসাবাল এই বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোলটি পূর্ণ করেছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে এমিলিও বুত্রাগেনিও এবং ২০১০ সালে দাভিদ ভিয়া এই কীর্তি গড়েছিলেন। ৫৮তম মিনিটে গোল করা পেদ্রো পোরো গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একাধিক গোল করা পঞ্চম ডিফেন্ডার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপ্পে এই ম্যাচে একবারও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি, যা ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের পর তার জন্য প্রথম ঘটনা।

স্পেন তাদের নকআউট পর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০০৬ সালের পর থেকে টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে। সব মিলিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার গৌরব অর্জন করেছে, যা ইউরোপের কোনো পুরুষ জাতীয় দলের হিসেবে ইতালির (২০১৮-২০২১) রেকর্ডের সমান।

এই সময়ে স্পেনের একমাত্র হারটি ২০২১ সালে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে।.৫.মিকেল ওইয়ারসাবাল পেনাল্টি থেকে ২২তম মিনিটে গোল করে এই বিশ্বকাপে নিজের ৫ম গোলটি করেছেন।

২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইতালিও টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল।