লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাগরে ৩৬ দিন ভেসে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে এখন পুলিশের হেফাজতে

বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী উপকূলের কাছে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার দুই জেলেকে মহেশখালী থানা-পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া এই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে বাবা-ছেলে; তাঁরা হলেন এস এইচ চামিন্দা ও তাঁর ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং। তাঁদের বাড়ি শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোডে।

গত শুক্রবার স্থানীয় জেলেরা ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়া একটি ট্রলার থেকে তাঁদের উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসেন। এর আগে গত বুধবার রাতে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় জিয়াউর রহমান নামের এক জেলের নজরে পড়ে ভাসমান ট্রলারটি। মানবিক কারণে তিনি তাঁদের উদ্ধার করে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা ঘাটে নিয়ে আসেন। উদ্ধারের পর থেকে তাঁরা ট্রলারমালিক জিয়াউর রহমানের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। দোভাষীর সহায়তায় তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঘটনার ৩৬ দিন আগে চারজন জেলে ট্রলার নিয়ে শ্রীলঙ্কার উপকূলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। বৈরী আবহাওয়ায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারটি আন্দামান সাগরের দিকে ভেসে যায়। ঘটনার তিন দিন পর অন্য একটি নৌকার সহায়তায় অন্য দুই জেলে দেশে ফিরে যেতে পারলেও বাবা-ছেলে নিজেদের ট্রলারেই থেকে যান। পরবর্তীতে মিয়ানমারের কিছু লোক ট্রলারে উঠে তাঁদের মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

যাত্রার সাত দিনের মাথায় তাঁদের মজুত খাবার ফুরিয়ে যায়। এরপর টানা ২৯ দিন তাঁরা বড়শির টোপ ও সমুদ্রের কাঁচা মাছ খেয়ে প্রাণ বাঁচান। উদ্ধারকারী জিয়াউর রহমান জানান, শ্রীলঙ্কান দুই জেলে বারবার দেশে ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন এবং তাঁদের নৌকাটিও সঙ্গে নিতে চান। তবে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে এই ছোট নৌকায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান বলেন, দুই জেলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুতই একটি সমাধান আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া পুলিশ তাঁদের নৌকাটি জব্দ করেছে।

এ বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।.পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩৬ দিন আগে ৪ জন জেলে একটি ট্রলারে করে শ্রীলঙ্কার উপকূলে মাছ ধরতে যান।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

সাগরে ৩৬ দিন ভেসে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে এখন পুলিশের হেফাজতে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী উপকূলের কাছে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার দুই জেলেকে মহেশখালী থানা-পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া এই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে বাবা-ছেলে; তাঁরা হলেন এস এইচ চামিন্দা ও তাঁর ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং। তাঁদের বাড়ি শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোডে।

গত শুক্রবার স্থানীয় জেলেরা ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়া একটি ট্রলার থেকে তাঁদের উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসেন। এর আগে গত বুধবার রাতে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় জিয়াউর রহমান নামের এক জেলের নজরে পড়ে ভাসমান ট্রলারটি। মানবিক কারণে তিনি তাঁদের উদ্ধার করে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা ঘাটে নিয়ে আসেন। উদ্ধারের পর থেকে তাঁরা ট্রলারমালিক জিয়াউর রহমানের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। দোভাষীর সহায়তায় তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঘটনার ৩৬ দিন আগে চারজন জেলে ট্রলার নিয়ে শ্রীলঙ্কার উপকূলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। বৈরী আবহাওয়ায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারটি আন্দামান সাগরের দিকে ভেসে যায়। ঘটনার তিন দিন পর অন্য একটি নৌকার সহায়তায় অন্য দুই জেলে দেশে ফিরে যেতে পারলেও বাবা-ছেলে নিজেদের ট্রলারেই থেকে যান। পরবর্তীতে মিয়ানমারের কিছু লোক ট্রলারে উঠে তাঁদের মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

যাত্রার সাত দিনের মাথায় তাঁদের মজুত খাবার ফুরিয়ে যায়। এরপর টানা ২৯ দিন তাঁরা বড়শির টোপ ও সমুদ্রের কাঁচা মাছ খেয়ে প্রাণ বাঁচান। উদ্ধারকারী জিয়াউর রহমান জানান, শ্রীলঙ্কান দুই জেলে বারবার দেশে ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন এবং তাঁদের নৌকাটিও সঙ্গে নিতে চান। তবে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে এই ছোট নৌকায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান বলেন, দুই জেলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুতই একটি সমাধান আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া পুলিশ তাঁদের নৌকাটি জব্দ করেছে।

এ বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।.পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩৬ দিন আগে ৪ জন জেলে একটি ট্রলারে করে শ্রীলঙ্কার উপকূলে মাছ ধরতে যান।