লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবের সুরক্ষায় দ্রুত সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। নতুন একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় দেশ দুটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠক শেষে তিন দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত আগস্ট মাসে দেশ তিনটি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল শর্ত হলো—তিনটি দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে অপর দুটি দেশ তার সহায়তায় এগিয়ে আসবে। এই জোটের মাধ্যমে ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শক্তি সৌদি আরব সামরিকভাবে এক সুতোয় বাঁধা পড়ল।

রিয়াদের জরুরি বৈঠকে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনাসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশের প্রতিনিধিরা সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির তীব্র নিন্দা জানান। তবে এই বিবৃতিতে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা পাঠানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তুরস্ক ও পাকিস্তানের সৈন্যরা ঠিক কী ধরনের দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের জেরে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটির বিভিন্ন শহর, তেল অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি গত সেপ্টেম্বরে হুথিরা নতুন করে অভিযান চালিয়ে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের কাছ থেকে বেশ কিছু এলাকা দখল করে নেয়। এর জবাবে সোমবারই সৌদি আরবের বিমান সহায়তায় হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখলে পাল্টা বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেন সরকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেঘনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, চাল পাবেন ৪২ হাজার জেলে

সৌদি আরবের সুরক্ষায় দ্রুত সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। নতুন একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় দেশ দুটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠক শেষে তিন দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত আগস্ট মাসে দেশ তিনটি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল শর্ত হলো—তিনটি দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে অপর দুটি দেশ তার সহায়তায় এগিয়ে আসবে। এই জোটের মাধ্যমে ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শক্তি সৌদি আরব সামরিকভাবে এক সুতোয় বাঁধা পড়ল।

রিয়াদের জরুরি বৈঠকে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনাসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশের প্রতিনিধিরা সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির তীব্র নিন্দা জানান। তবে এই বিবৃতিতে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা পাঠানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তুরস্ক ও পাকিস্তানের সৈন্যরা ঠিক কী ধরনের দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের জেরে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটির বিভিন্ন শহর, তেল অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি গত সেপ্টেম্বরে হুথিরা নতুন করে অভিযান চালিয়ে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের কাছ থেকে বেশ কিছু এলাকা দখল করে নেয়। এর জবাবে সোমবারই সৌদি আরবের বিমান সহায়তায় হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখলে পাল্টা বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেন সরকার।