লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালের ত্রিশূলী সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত

নেপালের ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ধসে যাওয়া সুড়ঙ্গে আর কোনো জীবিত মানুষ অবশিষ্ট নেই বলে নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারীরা। শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত টানা তল্লাশি চালানো হয়। নতুন করে আর কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানকার উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এই উদ্ধারকাজে নেতৃত্ব দেন নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। তাঁর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল শুক্রবার ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গটিতে প্রবেশ করে। উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিল নেপালি সেনার একটি দলও। এপিএফ সদস্য অম্বর মাহাত সুড়ঙ্গ থেকে ফিরে জানান, পুরো প্রকল্প এলাকা কাদা, মাটি ও পাথরে চাপা পড়ে গেছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়েও কেবল কাদা আর মাটি মিলেছে। বানের পানির প্রচণ্ড চাপে সুড়ঙ্গের উপরের স্ল্যাবটিও ধসে পড়েছে।

গত ২৬ আগস্ট বুধবার সকালে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। সে সময় নেপালের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল, যার প্রতিটিতেই মাটির নিচে সুড়ঙ্গ কেটে পাওয়ারহাউস তৈরি করা হয়েছিল। বন্যার তোড়ে প্রতিটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেপালি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেবল সুড়ঙ্গগুলোতেই প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ হন।

দীর্ঘ নয় দিন পর ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন নামের দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক শ্রমিকের মরদেহও। জীবিত দুই শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার পাওয়া সঞ্জয় শাহ জানান, বন্যার খবর পেয়ে তিনি অন্যদের নিরাপদে বের করার চেষ্টা করছিলেন। এতে তাঁর নিজের বের হতে দেরি হয়ে যায়। সুড়ঙ্গের ভেতরে টানা নয় দিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা ও মন্ত্র জপ করে বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে, নেপালে এই হড়পা বানে শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১,২৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো ৫,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ করলেন সহশিল্পী মৌসুমী

নেপালের ত্রিশূলী সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ধসে যাওয়া সুড়ঙ্গে আর কোনো জীবিত মানুষ অবশিষ্ট নেই বলে নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারীরা। শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত টানা তল্লাশি চালানো হয়। নতুন করে আর কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানকার উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এই উদ্ধারকাজে নেতৃত্ব দেন নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। তাঁর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল শুক্রবার ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গটিতে প্রবেশ করে। উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিল নেপালি সেনার একটি দলও। এপিএফ সদস্য অম্বর মাহাত সুড়ঙ্গ থেকে ফিরে জানান, পুরো প্রকল্প এলাকা কাদা, মাটি ও পাথরে চাপা পড়ে গেছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়েও কেবল কাদা আর মাটি মিলেছে। বানের পানির প্রচণ্ড চাপে সুড়ঙ্গের উপরের স্ল্যাবটিও ধসে পড়েছে।

গত ২৬ আগস্ট বুধবার সকালে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। সে সময় নেপালের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল, যার প্রতিটিতেই মাটির নিচে সুড়ঙ্গ কেটে পাওয়ারহাউস তৈরি করা হয়েছিল। বন্যার তোড়ে প্রতিটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেপালি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেবল সুড়ঙ্গগুলোতেই প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ হন।

দীর্ঘ নয় দিন পর ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন নামের দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক শ্রমিকের মরদেহও। জীবিত দুই শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার পাওয়া সঞ্জয় শাহ জানান, বন্যার খবর পেয়ে তিনি অন্যদের নিরাপদে বের করার চেষ্টা করছিলেন। এতে তাঁর নিজের বের হতে দেরি হয়ে যায়। সুড়ঙ্গের ভেতরে টানা নয় দিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা ও মন্ত্র জপ করে বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে, নেপালে এই হড়পা বানে শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১,২৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো ৫,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।