লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। শনিবার সমুদ্রপথে দুই দেশ পরস্পরের সংশ্লিষ্ট জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। প্রায় এক মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর এই সংঘাতের সূচনা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ট্যাংকারসহ দুটি জাহাজকে ‘স্থায়ীভাবে অকার্যকর’ এবং ওমান উপসাগরে থাকা আরেকটি জাহাজকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এই জাহাজগুলো আইআরজিসি ও তাদের মিত্রদের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বিশাল ছায়া নেটওয়ার্কের অংশ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরিব মার্কিন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের দাবি, খার্গ দ্বীপের কাছে আক্রান্ত ট্যাংকারটিতে কোনো হতাহত হয়নি। এছাড়া ওমান উপসাগরে হামলার শিকার অপর দুটি ট্যাংকারের ক্রুদের লাইফবোটে করে তীরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা হামলার দাবি করে। আইআরজিসি জানায়, তারা তিনটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আরও তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এই ট্যাংকারগুলো ‘অননুমোদিত’ রুট ব্যবহার করছিল এবং ভবিষ্যতে অন্য জাহাজগুলোকেও ওই পথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ—একটি বিমানবাহী রণতরী ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। সেন্টকমের দাবি, জাহাজ দুটি আইআরজিসির একাধিক হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। যুদ্ধ শুরুর পর ফেব্রুয়ারি থেকেই এই জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় বিকল্প রুটে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে, যদিও সেখানেও ইরানের হামলার ঘটনা ঘটছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান মার্কিন জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেবে। এর আগে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এছাড়া দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হওয়ার দাবি করেছে তেহরান, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ইরান ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার এই দাবির বিষয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ করলেন সহশিল্পী মৌসুমী

হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। শনিবার সমুদ্রপথে দুই দেশ পরস্পরের সংশ্লিষ্ট জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। প্রায় এক মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর এই সংঘাতের সূচনা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ট্যাংকারসহ দুটি জাহাজকে ‘স্থায়ীভাবে অকার্যকর’ এবং ওমান উপসাগরে থাকা আরেকটি জাহাজকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এই জাহাজগুলো আইআরজিসি ও তাদের মিত্রদের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বিশাল ছায়া নেটওয়ার্কের অংশ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরিব মার্কিন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের দাবি, খার্গ দ্বীপের কাছে আক্রান্ত ট্যাংকারটিতে কোনো হতাহত হয়নি। এছাড়া ওমান উপসাগরে হামলার শিকার অপর দুটি ট্যাংকারের ক্রুদের লাইফবোটে করে তীরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা হামলার দাবি করে। আইআরজিসি জানায়, তারা তিনটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আরও তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এই ট্যাংকারগুলো ‘অননুমোদিত’ রুট ব্যবহার করছিল এবং ভবিষ্যতে অন্য জাহাজগুলোকেও ওই পথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ—একটি বিমানবাহী রণতরী ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। সেন্টকমের দাবি, জাহাজ দুটি আইআরজিসির একাধিক হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। যুদ্ধ শুরুর পর ফেব্রুয়ারি থেকেই এই জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় বিকল্প রুটে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে, যদিও সেখানেও ইরানের হামলার ঘটনা ঘটছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান মার্কিন জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেবে। এর আগে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এছাড়া দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হওয়ার দাবি করেছে তেহরান, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ইরান ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার এই দাবির বিষয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।