লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমির খানের তৃতীয় বিয়েতে সাবেক স্ত্রীদের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বন্ধু

বলিউড তারকা আমির খান গত ৫ জুলাই গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে ঘরোয়া আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে আমিরের মা, বোন এবং সন্তানেরা উপস্থিত থাকলেও তার সাবেক দুই স্ত্রী রীনা দত্ত ও কিরণ রাও সেখানে ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন থাকলেও আমিরের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ‘লগান’ ছবির সহ-অভিনেতা আমিন হাজি এর নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

আমিন হাজি রেডিফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, বিয়ের সময় কিরণ রাও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তবে তাদের ছেলে আজাদ বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতে ফিরে এসেছিল। রীনা দত্তের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে আমিন বলেন, এটিকে কোনোভাবেই সম্পর্কের টানাপোড়েন হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, সব অনুপস্থিতির পেছনে নেতিবাচক কারণ থাকে না। অনেক সময় কাউকে তার নিজস্ব পরিসর দেওয়া এবং স্বস্তিতে রাখা ভালোবাসা ও সম্মানেরই বহিঃপ্রকাশ। এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে কাউকে অস্বস্তিতে ফেলতে কেউ চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আমিন জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বদলালেও আমির, রীনা ও কিরণের পেশাগত সম্পর্ক এখনো অটুট রয়েছে। তারা এখনো ‘পানি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে সত্যজিৎ ভাটকালসহ একসঙ্গে কাজ করছেন। তিনি একটি ব্যক্তিগত ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, রীনা দত্তর বাবার মৃত্যুর সময় আমির নিজেই শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমিন জানান, কোনো প্রচলিত আচার, সংগীত বা মেহেদির মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ছিল না। শুধু ঘরোয়া পরিবেশে সবাই গল্পগুজব করে সময় কাটিয়েছেন। বিয়ের আগের সন্ধ্যায় আয়োজিত পরিচিতি পর্বে গৌরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমিরের বন্ধুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। গৌরীর বাবা রবার্ট বব স্প্র্যাট, ভাই, বোন এবং মেয়ে শওনাসহ পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আমিন জানান, গৌরীর পরিবার অত্যন্ত আন্তরিক এবং তারা আমিরকে খুব ভালোবাসেন।

আমিন হাজি আরও বলেন, আমির ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। তিনি মনে করেন, আমিরের কাজের প্রতি অতিরিক্ত নিবেদন তার ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলেছে, যা অনেকের কাছে অবহেলার মনে হতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমির সবসময় তার বিবাহিত সম্পর্ককে সম্মান করেছেন এবং বিচ্ছেদের পরও সাবেক পরিবার ও সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালনে কখনো পিছপা হননি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ের পর ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তাদের দুই সন্তান জুনাইদ ও ইরা খান। এরপর ২০০৫ সালে আমির চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন। সারোগেসির মাধ্যমে তাদের ছেলে আজাদের জন্ম হয়। ২০২১ সালে তারা আলাদা হলেও দুজন এখনো যৌথভাবে সন্তানের দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর দীর্ঘদিনের পরিচিত গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে আমির ৫ জুলাই বিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। গৌরীর আগের সংসারের পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। এই ঘরোয়া আয়োজনে আমিরের সন্তান জুনাইদ, ইরা, জামাতা নূপুর শিখরেসহ পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর, রাজকুমার হিরানি, মুকেশ আম্বানি, রাজ ঠাকরে, ইরফান পাঠান, বীর দাস ও এলি আব্রামসহ প্রায় ১৫০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

আমির খানের তৃতীয় বিয়েতে সাবেক স্ত্রীদের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বন্ধু

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বলিউড তারকা আমির খান গত ৫ জুলাই গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে ঘরোয়া আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে আমিরের মা, বোন এবং সন্তানেরা উপস্থিত থাকলেও তার সাবেক দুই স্ত্রী রীনা দত্ত ও কিরণ রাও সেখানে ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন থাকলেও আমিরের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ‘লগান’ ছবির সহ-অভিনেতা আমিন হাজি এর নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

আমিন হাজি রেডিফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, বিয়ের সময় কিরণ রাও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তবে তাদের ছেলে আজাদ বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতে ফিরে এসেছিল। রীনা দত্তের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে আমিন বলেন, এটিকে কোনোভাবেই সম্পর্কের টানাপোড়েন হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, সব অনুপস্থিতির পেছনে নেতিবাচক কারণ থাকে না। অনেক সময় কাউকে তার নিজস্ব পরিসর দেওয়া এবং স্বস্তিতে রাখা ভালোবাসা ও সম্মানেরই বহিঃপ্রকাশ। এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে কাউকে অস্বস্তিতে ফেলতে কেউ চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আমিন জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বদলালেও আমির, রীনা ও কিরণের পেশাগত সম্পর্ক এখনো অটুট রয়েছে। তারা এখনো ‘পানি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে সত্যজিৎ ভাটকালসহ একসঙ্গে কাজ করছেন। তিনি একটি ব্যক্তিগত ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, রীনা দত্তর বাবার মৃত্যুর সময় আমির নিজেই শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমিন জানান, কোনো প্রচলিত আচার, সংগীত বা মেহেদির মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ছিল না। শুধু ঘরোয়া পরিবেশে সবাই গল্পগুজব করে সময় কাটিয়েছেন। বিয়ের আগের সন্ধ্যায় আয়োজিত পরিচিতি পর্বে গৌরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমিরের বন্ধুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। গৌরীর বাবা রবার্ট বব স্প্র্যাট, ভাই, বোন এবং মেয়ে শওনাসহ পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আমিন জানান, গৌরীর পরিবার অত্যন্ত আন্তরিক এবং তারা আমিরকে খুব ভালোবাসেন।

আমিন হাজি আরও বলেন, আমির ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। তিনি মনে করেন, আমিরের কাজের প্রতি অতিরিক্ত নিবেদন তার ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলেছে, যা অনেকের কাছে অবহেলার মনে হতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমির সবসময় তার বিবাহিত সম্পর্ককে সম্মান করেছেন এবং বিচ্ছেদের পরও সাবেক পরিবার ও সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালনে কখনো পিছপা হননি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ের পর ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তাদের দুই সন্তান জুনাইদ ও ইরা খান। এরপর ২০০৫ সালে আমির চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন। সারোগেসির মাধ্যমে তাদের ছেলে আজাদের জন্ম হয়। ২০২১ সালে তারা আলাদা হলেও দুজন এখনো যৌথভাবে সন্তানের দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর দীর্ঘদিনের পরিচিত গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে আমির ৫ জুলাই বিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। গৌরীর আগের সংসারের পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। এই ঘরোয়া আয়োজনে আমিরের সন্তান জুনাইদ, ইরা, জামাতা নূপুর শিখরেসহ পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর, রাজকুমার হিরানি, মুকেশ আম্বানি, রাজ ঠাকরে, ইরফান পাঠান, বীর দাস ও এলি আব্রামসহ প্রায় ১৫০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।