লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএসএফের গুলিতে পা হারিয়ে চরম সংকটে কুড়িগ্রামের আব্দুল বারী

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে পা হারিয়ে দীর্ঘ দুই দশক ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আব্দুল বারী। পঙ্গুত্বের কারণে কোনো কাজ করতে না পারা এই মানুষটি পাননি কোনো ক্ষতিপূরণ। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে এবং ঋণের কিস্তি মেটাতে গিয়ে পরিবার নিয়ে এখন চরম সংকটে দিন কাটছে তার।

২০০১ সালের ২৫ মে রাজিবপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন鋪পিলার ১০৭২-এর কাছে এই ঘটনা ঘটে। ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী যুদ্ধের মাত্র দেড় মাস পরের ঘটনা এটি। তখন আব্দুল বারীর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। সকালে বাবার কথায় সীমান্তের কাছে নিজেদের ধানক্ষেত দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থানকালেই আকস্মিকভাবে বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে বারী তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

বারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে যখন তার জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি নিজেকে কাঁটাতারের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। গুলি করার পর প্রায় আধা ঘণ্টা তাকে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে প্রথমে নিকটবর্তী কালাইয়ের চর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় যে তিনি কাঁটাতার কাটতে এসেছিলেন এবং তা রেকর্ড করা হয়। এরপর তাকে ভারতের তুরা জেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুই মাস পাঁচ দিন (বারীর মতে এক মাস পাঁচ দিন) রাখা হলেও কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। চিকিৎসাহীনতায় তার বাম পা পচে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। অবশেষে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই শেরপুর জেলার ঢালু বর্ডার দিয়ে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বর্ডার থেকে স্বজনরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা বোর্ড বসিয়ে পচে যাওয়া বাম পা কেটে ফেলেন। রংপুর মেডিকেলে দেড় মাস চিকিৎসা শেষে পঙ্গু শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন বারী।

পরবর্তী সময়ে বারীর বাবা-মা মারা যান এবং ভাইয়েরা তাকে বিয়ে দেন। বর্তমানে তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের বালিয়ামারী ব্যাপারীপাড়া গ্রামে চরম কষ্টে দিন কাটছে তার। সরকার থেকে একটি পঙ্গু ভাতার কার্ড পেলেও তা দিয়ে সংসার চলে না। জীবিকার তাগিদে আশা এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি মুদি দোকান দিয়েছিলেন বারী। কিন্তু প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা কিস্তি দেওয়ার চাপের মাঝেই তিনবার তার দোকানটিতে চুরির ঘটনা ঘটে। এখন কিস্তির টাকা শোধ করবেন নাকি সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেবেন—তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এই সীমান্ত ভুক্তভোগীর।

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০: ২৮আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৩৮

জনপ্রিয় সংবাদ

বরমীর শতবর্ষী তুন্দুল রুটির স্বাদে জমে ওঠে রুটি মহল

বিএসএফের গুলিতে পা হারিয়ে চরম সংকটে কুড়িগ্রামের আব্দুল বারী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে পা হারিয়ে দীর্ঘ দুই দশক ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আব্দুল বারী। পঙ্গুত্বের কারণে কোনো কাজ করতে না পারা এই মানুষটি পাননি কোনো ক্ষতিপূরণ। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে এবং ঋণের কিস্তি মেটাতে গিয়ে পরিবার নিয়ে এখন চরম সংকটে দিন কাটছে তার।

২০০১ সালের ২৫ মে রাজিবপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন鋪পিলার ১০৭২-এর কাছে এই ঘটনা ঘটে। ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী যুদ্ধের মাত্র দেড় মাস পরের ঘটনা এটি। তখন আব্দুল বারীর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। সকালে বাবার কথায় সীমান্তের কাছে নিজেদের ধানক্ষেত দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থানকালেই আকস্মিকভাবে বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে বারী তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

বারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে যখন তার জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি নিজেকে কাঁটাতারের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। গুলি করার পর প্রায় আধা ঘণ্টা তাকে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে প্রথমে নিকটবর্তী কালাইয়ের চর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় যে তিনি কাঁটাতার কাটতে এসেছিলেন এবং তা রেকর্ড করা হয়। এরপর তাকে ভারতের তুরা জেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুই মাস পাঁচ দিন (বারীর মতে এক মাস পাঁচ দিন) রাখা হলেও কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। চিকিৎসাহীনতায় তার বাম পা পচে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। অবশেষে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই শেরপুর জেলার ঢালু বর্ডার দিয়ে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বর্ডার থেকে স্বজনরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা বোর্ড বসিয়ে পচে যাওয়া বাম পা কেটে ফেলেন। রংপুর মেডিকেলে দেড় মাস চিকিৎসা শেষে পঙ্গু শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন বারী।

পরবর্তী সময়ে বারীর বাবা-মা মারা যান এবং ভাইয়েরা তাকে বিয়ে দেন। বর্তমানে তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের বালিয়ামারী ব্যাপারীপাড়া গ্রামে চরম কষ্টে দিন কাটছে তার। সরকার থেকে একটি পঙ্গু ভাতার কার্ড পেলেও তা দিয়ে সংসার চলে না। জীবিকার তাগিদে আশা এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি মুদি দোকান দিয়েছিলেন বারী। কিন্তু প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা কিস্তি দেওয়ার চাপের মাঝেই তিনবার তার দোকানটিতে চুরির ঘটনা ঘটে। এখন কিস্তির টাকা শোধ করবেন নাকি সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেবেন—তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এই সীমান্ত ভুক্তভোগীর।

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০: ২৮আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৩৮