লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১, সবচেয়ে বেশি প্রভাব কক্সবাজারে

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাতটি জেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এতে মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্য পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। দুর্গতদের সহায়তায় ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে, যেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এছাড়াও এই জেলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ১৬টি উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ বন্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি। কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের ৬৪ জেলার জন্য ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং দুর্গত এলাকায় শুকনা খাবার, চাল ও নগদ অর্থসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

দেশে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১, সবচেয়ে বেশি প্রভাব কক্সবাজারে

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাতটি জেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এতে মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্য পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। দুর্গতদের সহায়তায় ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে, যেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এছাড়াও এই জেলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ১৬টি উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ বন্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি। কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের ৬৪ জেলার জন্য ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং দুর্গত এলাকায় শুকনা খাবার, চাল ও নগদ অর্থসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।