লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিমালয়ে ভয়াবহ বন্যা: আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

গত সপ্তাহে হিমালয় অঞ্চলে যে ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছে, তাকে ‘সাধারণ বন্যা’ হিসেবে দেখতে নারাজ নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। রাসুয়া এলাকার ভোতে কোশি নদীতে ঘটা এই বন্যার মূল কারণ হিসেবে তিনি হিমালয় অঞ্চলের বিশালাকার তুষার ও বরফের স্তর ধসে পড়াকে দায়ী করেছেন।

যদিও হিমবাহ ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক মহলে স্বীকৃত। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমালয়ের বরফ আগের চেয়ে দ্রুত গলছে, যা এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের মতে, এই ঘটনা হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির একটি বড় সতর্কবার্তা।

নেপালের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি এবং এর অধিকাংশ মানুষই গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের তুলনায় নেপালের অবদান নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও, দেশটির জনগণকে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতির বড় অংশ সহ্য করতে হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নেপালের এই পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই দুর্যোগগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো দাবি তোলার এটাই উপযুক্ত সময়।

এর আগেও হিমালয় অঞ্চলের নাজুক পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক আলোচনায়। ২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছিলেন যে, হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে’। এছাড়া, সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ বন্যার পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েলও পাহাড়ি পরিবেশের নাজুকতার বিষয়টি উল্লেখ করে একে একটি ভয়াবহ স্মারক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরবে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

হিমালয়ে ভয়াবহ বন্যা: আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত সপ্তাহে হিমালয় অঞ্চলে যে ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছে, তাকে ‘সাধারণ বন্যা’ হিসেবে দেখতে নারাজ নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। রাসুয়া এলাকার ভোতে কোশি নদীতে ঘটা এই বন্যার মূল কারণ হিসেবে তিনি হিমালয় অঞ্চলের বিশালাকার তুষার ও বরফের স্তর ধসে পড়াকে দায়ী করেছেন।

যদিও হিমবাহ ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক মহলে স্বীকৃত। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমালয়ের বরফ আগের চেয়ে দ্রুত গলছে, যা এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের মতে, এই ঘটনা হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির একটি বড় সতর্কবার্তা।

নেপালের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি এবং এর অধিকাংশ মানুষই গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের তুলনায় নেপালের অবদান নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও, দেশটির জনগণকে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতির বড় অংশ সহ্য করতে হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নেপালের এই পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই দুর্যোগগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো দাবি তোলার এটাই উপযুক্ত সময়।

এর আগেও হিমালয় অঞ্চলের নাজুক পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক আলোচনায়। ২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছিলেন যে, হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে’। এছাড়া, সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ বন্যার পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েলও পাহাড়ি পরিবেশের নাজুকতার বিষয়টি উল্লেখ করে একে একটি ভয়াবহ স্মারক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।