লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় বিশকেকে চীন, রাশিয়া ও ভারতের নেতারা

যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের বিপরীতে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাব মোকাবিলায় এই তিন দেশের নেতারা তাদের কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরছেন।

সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। এ সময় পুতিন চীনের সঙ্গে ভিসামুক্ত ব্যবস্থা স্থায়ী করার বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানান। মঙ্গলবার পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে এবং একই দিনে এসসিওর আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরু হবে।

২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ মিলে নিরাপত্তাবিষয়ক ফোরাম হিসেবে এসসিও প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে এর সদস্য দেশের সংখ্যা ১০টি, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরান এই সম্মেলনকে পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরে নতুন অংশীদারিত্বের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে।

চীন ও রাশিয়া এসসিওকে জি৭-এর মতো পশ্চিমা জোটের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী। বেইজিং এই সংস্থার পরিধি ও প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসসিও কোনো ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক বা সামরিক জোট নয়; বরং সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ ও মতপার্থক্য এখানে স্পষ্ট।

ভারতের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সম্মেলন বাস্তব ফলাফলের চেয়ে কৌশলগত বার্তার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কার্নেগি ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক দিনকর পেরি বলেন, এসসিও ভারতকে এমন একটি অঞ্চলে আলোচনার টেবিলে জায়গা করে দেয়, যা বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষা এবং পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক প্রবণতা পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৭.৪১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় বিশকেকে চীন, রাশিয়া ও ভারতের নেতারা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের বিপরীতে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাব মোকাবিলায় এই তিন দেশের নেতারা তাদের কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরছেন।

সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। এ সময় পুতিন চীনের সঙ্গে ভিসামুক্ত ব্যবস্থা স্থায়ী করার বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানান। মঙ্গলবার পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে এবং একই দিনে এসসিওর আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরু হবে।

২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ মিলে নিরাপত্তাবিষয়ক ফোরাম হিসেবে এসসিও প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে এর সদস্য দেশের সংখ্যা ১০টি, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরান এই সম্মেলনকে পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরে নতুন অংশীদারিত্বের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে।

চীন ও রাশিয়া এসসিওকে জি৭-এর মতো পশ্চিমা জোটের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী। বেইজিং এই সংস্থার পরিধি ও প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসসিও কোনো ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক বা সামরিক জোট নয়; বরং সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ ও মতপার্থক্য এখানে স্পষ্ট।

ভারতের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সম্মেলন বাস্তব ফলাফলের চেয়ে কৌশলগত বার্তার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কার্নেগি ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক দিনকর পেরি বলেন, এসসিও ভারতকে এমন একটি অঞ্চলে আলোচনার টেবিলে জায়গা করে দেয়, যা বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষা এবং পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক প্রবণতা পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে।