লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আল্লাহর আশ্রয় ও তওবার গুরুত্ব

প্রকৃতির ভালো-মন্দসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা মহান আল্লাহর অধীনে। তাঁর আদেশ ও হুকুম ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়ে না বা নদীর এক ফোঁটা পানিও প্রবাহিত হয় না। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ও টর্নেডোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো মূলত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে তা আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র মতো দুর্যোগগুলো আমাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এ সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা-ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করা জরুরি। দুর্যোগ মোকাবিলা করার চেয়ে এর ক্ষতি থেকে বাঁচতে আল্লাহর করুণা চাওয়া বেশি প্রয়োজন, কারণ পবিত্র কোরআনের সুরা রুমের ৪১ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে, জলে-স্থলে বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল।

কোরআনের অসংখ্য আয়াত ও হাদিস থেকে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের পাপের ফসল এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে সতর্ক করেন। সুরা বাকারার ১৫৫-১৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে ভয়, ক্ষুধা, জানমাল ও ফলফলাদির ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করেন এবং ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দেন। সুরা শুরা-র ৩০ নম্বর আয়াতে এসেছে, মানুষের ওপর যেসব বিপদ আসে তা তাদেরই কর্মফল এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ অনেক গোনাহ মাফ করে দেন। যখন সমাজ ও দেশের মানুষ পাপ ও অন্যায়ে লিপ্ত হয় এবং আল্লাহকে ভুলে যায়, তখনই বিপর্যয় নেমে আসে।

দুর্যোগের সময় মহান আল্লাহর কাছে তওবা করা, তাঁকে স্মরণ করা এবং নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা মুমিনের কর্তব্য। রাসুল (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য দোয়া করেছিলেন যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে তাদের একসঙ্গে ধ্বংস না করা হয়। ঝড়-বৃষ্টির সময় তিনি বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করতেন এবং অন্যদেরও তা করার নির্দেশ দিতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হওয়ার বদলে চিন্তিত হয়ে পড়তেন। তিনি শঙ্কিত থাকতেন যে, আগের উম্মতদের মতো এই বৃষ্টি আজাব হিসেবে পতিত হয় কি না (মুসলিম: ৮৯৯, সহিহ বুখারি: ৩৪৪৯)।

ঝড়-তুফানের সময় সাহাবিরা নামাজে দাঁড়িয়ে ধৈর্য ধারণ করতেন। দমকা হাওয়া বইতে দেখলে রাসুল (সা.) উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তেন এবং আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে এদিক-সেদিক পায়চারি করতেন (সুনানে আবু দাউদ: ৩২০৬)। তখন তিনি এই দোয়াটি পড়তেন: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা-ফিহা ওয়া খাইরা মা-উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা-ফিহা ওয়া শাররি মা-উরসিলাত বিহি।’ এর অর্থ হলো, হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এ বৃষ্টির কল্যাণ, এতে থাকা কল্যাণ এবং এর মাধ্যমে প্রেরিত কল্যাণ প্রার্থনা করছি; আর এই বৃষ্টি ও এর মাধ্যমে প্রেরিত সব রকম অকল্যাণ ও বিপদাপদ থেকে পরিত্রাণ চাই। বৃষ্টি শুরু হলে তিনি শান্ত হতেন। এছাড়া ঝড়-তুফানের সময় তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলা এবং আজান দেওয়া সুন্নত, তবে এই আজানে হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ বলার প্রয়োজন নেই (মিশকাতুল মাসাবিহ: ৫৩৪৫)।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের দাবানলে নতুন আতঙ্ক ‘ফায়ার ক্লাউড’, সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আল্লাহর আশ্রয় ও তওবার গুরুত্ব

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

প্রকৃতির ভালো-মন্দসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা মহান আল্লাহর অধীনে। তাঁর আদেশ ও হুকুম ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়ে না বা নদীর এক ফোঁটা পানিও প্রবাহিত হয় না। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ও টর্নেডোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো মূলত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে তা আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র মতো দুর্যোগগুলো আমাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এ সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা-ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করা জরুরি। দুর্যোগ মোকাবিলা করার চেয়ে এর ক্ষতি থেকে বাঁচতে আল্লাহর করুণা চাওয়া বেশি প্রয়োজন, কারণ পবিত্র কোরআনের সুরা রুমের ৪১ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে, জলে-স্থলে বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল।

কোরআনের অসংখ্য আয়াত ও হাদিস থেকে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের পাপের ফসল এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে সতর্ক করেন। সুরা বাকারার ১৫৫-১৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে ভয়, ক্ষুধা, জানমাল ও ফলফলাদির ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করেন এবং ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দেন। সুরা শুরা-র ৩০ নম্বর আয়াতে এসেছে, মানুষের ওপর যেসব বিপদ আসে তা তাদেরই কর্মফল এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ অনেক গোনাহ মাফ করে দেন। যখন সমাজ ও দেশের মানুষ পাপ ও অন্যায়ে লিপ্ত হয় এবং আল্লাহকে ভুলে যায়, তখনই বিপর্যয় নেমে আসে।

দুর্যোগের সময় মহান আল্লাহর কাছে তওবা করা, তাঁকে স্মরণ করা এবং নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা মুমিনের কর্তব্য। রাসুল (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য দোয়া করেছিলেন যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে তাদের একসঙ্গে ধ্বংস না করা হয়। ঝড়-বৃষ্টির সময় তিনি বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করতেন এবং অন্যদেরও তা করার নির্দেশ দিতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হওয়ার বদলে চিন্তিত হয়ে পড়তেন। তিনি শঙ্কিত থাকতেন যে, আগের উম্মতদের মতো এই বৃষ্টি আজাব হিসেবে পতিত হয় কি না (মুসলিম: ৮৯৯, সহিহ বুখারি: ৩৪৪৯)।

ঝড়-তুফানের সময় সাহাবিরা নামাজে দাঁড়িয়ে ধৈর্য ধারণ করতেন। দমকা হাওয়া বইতে দেখলে রাসুল (সা.) উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তেন এবং আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে এদিক-সেদিক পায়চারি করতেন (সুনানে আবু দাউদ: ৩২০৬)। তখন তিনি এই দোয়াটি পড়তেন: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা-ফিহা ওয়া খাইরা মা-উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা-ফিহা ওয়া শাররি মা-উরসিলাত বিহি।’ এর অর্থ হলো, হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এ বৃষ্টির কল্যাণ, এতে থাকা কল্যাণ এবং এর মাধ্যমে প্রেরিত কল্যাণ প্রার্থনা করছি; আর এই বৃষ্টি ও এর মাধ্যমে প্রেরিত সব রকম অকল্যাণ ও বিপদাপদ থেকে পরিত্রাণ চাই। বৃষ্টি শুরু হলে তিনি শান্ত হতেন। এছাড়া ঝড়-তুফানের সময় তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলা এবং আজান দেওয়া সুন্নত, তবে এই আজানে হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ বলার প্রয়োজন নেই (মিশকাতুল মাসাবিহ: ৫৩৪৫)।