লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন হামলা বন্ধ থাকলে পাল্টা হামলা চালাবে না ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে বিমান হামলা বন্ধ রাখে, তবে ইরানও পাল্টা হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে তেহরান। রোববার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তা হলো 'হামলার জবাবে হামলা'। তাই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান স্থগিত রাখলে ইরানও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই বার্তাটি ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

দীর্ঘ ১৩ রাতের ধারাবাহিক বিমান হামলার পর শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান স্থগিত করে। এরপর শনিবার ও রোববার কোনো মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইরানও গত দুই দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা আক্রমণ চালায়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাকে জানিয়েছেন যে, হামলার জন্য নির্ধারিত অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ইতিমধ্যে শেষ হয়ে এসেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ওয়াশিংটন সামরিক অভিযানে বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ ও এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য সময় দিতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রেখেছেন। আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অবস্থানে কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না।

এদিকে, একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চালানো হামলায় বেশিরভাগ লক্ষ্যবস্তু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে হলে গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন যে, বড় আকারের অভিযান পুনরায় শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শপিংমলে বিস্ফোরণ ও ধস, বহু হতাহতের শঙ্কা

মার্কিন হামলা বন্ধ থাকলে পাল্টা হামলা চালাবে না ইরান

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে বিমান হামলা বন্ধ রাখে, তবে ইরানও পাল্টা হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে তেহরান। রোববার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তা হলো 'হামলার জবাবে হামলা'। তাই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান স্থগিত রাখলে ইরানও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই বার্তাটি ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

দীর্ঘ ১৩ রাতের ধারাবাহিক বিমান হামলার পর শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান স্থগিত করে। এরপর শনিবার ও রোববার কোনো মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইরানও গত দুই দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা আক্রমণ চালায়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাকে জানিয়েছেন যে, হামলার জন্য নির্ধারিত অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ইতিমধ্যে শেষ হয়ে এসেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ওয়াশিংটন সামরিক অভিযানে বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ ও এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য সময় দিতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রেখেছেন। আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অবস্থানে কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না।

এদিকে, একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চালানো হামলায় বেশিরভাগ লক্ষ্যবস্তু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে হলে গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন যে, বড় আকারের অভিযান পুনরায় শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।