লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোজতবা খামেনি পারমাণবিক বোমা তৈরির নির্দেশ দিতে পারেন: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির চেয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে অনেক বেশি আগ্রহী হতে পারেন বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। দীর্ঘ বিশ্লেষণ শেষে মার্কিন গোয়েন্দারা এমন দাবি করেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে গেলেও পারমাণবিক বোমা তৈরির ঘোর বিরোধী ছিলেন। তবে তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে কথা না বললেও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি এবং ইরানের নতুন কট্টরপন্থী নেতৃত্ব ভবিষ্যতে পারমাণবিক বোমা তৈরির পথেই হাঁটতে পারেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উপর্যুপরি সামরিক হামলা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে আরও বেশি ধাবিত করতে পারে, যা চলমান সংঘাতের একটি বড় কৌশলগত পরিণতি হিসেবে দেখা দেবে। এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বেশ কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

অবশ্য মার্কিন গোয়েন্দারা একটি বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনির মনোভাব সংক্রান্ত অধিকাংশ গোয়েন্দা তথ্যই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তা ছাড়া সংঘাতের সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং এরপর থেকে তাকে খুব একটা জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বর্তমানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেও ৩৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তার বাবার মতো পূর্ণ কর্তৃত্ব এখনও প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সংকটময় সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করার কথা ভাবছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি পুনরায় চালু করেনি। মূলত মার্কিন হামলার পর দেশটি তাদের বিদ্যমান পারমাণবিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে ব্যস্ত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে তারা কিছু সেন্ট্রিফিউজ মধ্য ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দশমিনা ইউপি প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে ইউএনওকে অব্যাহতি

মোজতবা খামেনি পারমাণবিক বোমা তৈরির নির্দেশ দিতে পারেন: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫৯:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির চেয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে অনেক বেশি আগ্রহী হতে পারেন বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। দীর্ঘ বিশ্লেষণ শেষে মার্কিন গোয়েন্দারা এমন দাবি করেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে গেলেও পারমাণবিক বোমা তৈরির ঘোর বিরোধী ছিলেন। তবে তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে কথা না বললেও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি এবং ইরানের নতুন কট্টরপন্থী নেতৃত্ব ভবিষ্যতে পারমাণবিক বোমা তৈরির পথেই হাঁটতে পারেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উপর্যুপরি সামরিক হামলা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে আরও বেশি ধাবিত করতে পারে, যা চলমান সংঘাতের একটি বড় কৌশলগত পরিণতি হিসেবে দেখা দেবে। এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বেশ কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

অবশ্য মার্কিন গোয়েন্দারা একটি বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনির মনোভাব সংক্রান্ত অধিকাংশ গোয়েন্দা তথ্যই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তা ছাড়া সংঘাতের সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং এরপর থেকে তাকে খুব একটা জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বর্তমানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেও ৩৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তার বাবার মতো পূর্ণ কর্তৃত্ব এখনও প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সংকটময় সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করার কথা ভাবছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি পুনরায় চালু করেনি। মূলত মার্কিন হামলার পর দেশটি তাদের বিদ্যমান পারমাণবিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে ব্যস্ত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে তারা কিছু সেন্ট্রিফিউজ মধ্য ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।