লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পোশাক খাতের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইল বিজিএমইএ

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সরকারের কাছ থেকে নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পোশাক শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখা এবং সঠিক সময়ে পণ্য শিপমেন্ট নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান। তারা উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং ও জ্বালানি সংক্রান্ত সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি ব্যবস্থা চালুরও জোর দাবি জানানো হয়।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঘন ঘন অডিটের পরিবর্তে শীর্ষস্থানীয় পেশাদার ফার্মের মাধ্যমে বার্ষিক অডিট সম্পন্ন করার স্থায়ী নীতিমালা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি ভিত্তিতে একটি অস্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণ এবং গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে খাস জমি বরাদ্দ। এছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ-এর যৌথ সেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) সহজীকরণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি অনুযায়ী পোশাক খাতে শতভাগ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার বা সার্কুলারিটির অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি জানান, বিশ্ববাজারে দেশীয় শিল্পের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ২০২৬ সালের নভেম্বরে আয়োজিতব্য 'বাটেক্সপো ২০২৬' প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পোশাক শিল্পের অবদানের প্রশংসা করে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে শোনার আশ্বাস দেন। তিনি শিল্পের সুরক্ষা, স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ এবং বন্ধ কারখানা সচল করতে সরকারের নীতি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা এবং বিজিএমইএ সভাপতির সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়

পোশাক খাতের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইল বিজিএমইএ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সরকারের কাছ থেকে নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পোশাক শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখা এবং সঠিক সময়ে পণ্য শিপমেন্ট নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান। তারা উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং ও জ্বালানি সংক্রান্ত সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি ব্যবস্থা চালুরও জোর দাবি জানানো হয়।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঘন ঘন অডিটের পরিবর্তে শীর্ষস্থানীয় পেশাদার ফার্মের মাধ্যমে বার্ষিক অডিট সম্পন্ন করার স্থায়ী নীতিমালা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি ভিত্তিতে একটি অস্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণ এবং গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে খাস জমি বরাদ্দ। এছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ-এর যৌথ সেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) সহজীকরণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি অনুযায়ী পোশাক খাতে শতভাগ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার বা সার্কুলারিটির অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি জানান, বিশ্ববাজারে দেশীয় শিল্পের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ২০২৬ সালের নভেম্বরে আয়োজিতব্য 'বাটেক্সপো ২০২৬' প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পোশাক শিল্পের অবদানের প্রশংসা করে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে শোনার আশ্বাস দেন। তিনি শিল্পের সুরক্ষা, স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ এবং বন্ধ কারখানা সচল করতে সরকারের নীতি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা এবং বিজিএমইএ সভাপতির সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।