লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন। মঙ্গলবার সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এমপিওভুক্তদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এই অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এমপিওভুক্তরা শতভাগ নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।

বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত প্রায় ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত। বর্তমানে তারা মূল বেতনের শতভাগসহ চিকিৎসা ও বাড়িভাড়াসহ কিছু ভাতা পান। গত বছর তাদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা আগে মাসে এক হাজার টাকা ছিল। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের টাকা দেয়, তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা থাকে না।

নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মতো ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে। এতে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা একযোগে কার্যকর হবে।

নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের জন্য প্রথম ধাপে এ বছরের জুলাই থেকে প্রথম ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে ২৫ শতাংশ এবং জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। এর মানে হলো প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বেতন বাড়ার পর দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে নতুন করে ২৫ শতাংশসহ মোট ৭৫ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন পাবেন এই গ্রেডের চাকরিজীবীরা। শেষ ধাপে আরও ২৫ শতাংশ যোগ হলে তখন বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ পাবেন তাঁরা। অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরবে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৩:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন। মঙ্গলবার সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এমপিওভুক্তদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এই অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এমপিওভুক্তরা শতভাগ নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।

বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত প্রায় ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত। বর্তমানে তারা মূল বেতনের শতভাগসহ চিকিৎসা ও বাড়িভাড়াসহ কিছু ভাতা পান। গত বছর তাদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা আগে মাসে এক হাজার টাকা ছিল। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের টাকা দেয়, তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা থাকে না।

নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মতো ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে। এতে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা একযোগে কার্যকর হবে।

নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের জন্য প্রথম ধাপে এ বছরের জুলাই থেকে প্রথম ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে ২৫ শতাংশ এবং জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। এর মানে হলো প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বেতন বাড়ার পর দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে নতুন করে ২৫ শতাংশসহ মোট ৭৫ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন পাবেন এই গ্রেডের চাকরিজীবীরা। শেষ ধাপে আরও ২৫ শতাংশ যোগ হলে তখন বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ পাবেন তাঁরা। অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।