লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবারকে না জানিয়ে পোশাককর্মীর দাফন, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

ঢাকার আশুলিয়ায় আমেনা বেগম নামে এক পোশাককর্মীর মরদেহ তার পরিবারকে না জানিয়ে দাফন করার ঘটনায় স্বামী অলিউল্লাহ ওরফে শহিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার নিহতের বোন মোসা. রুবিনা বেগম আদালতে এই মামলার আবেদন করেন। ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে, বিষয়টি নিয়ে অন্য কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা সাত দিনের মধ্যে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রতিবেদন আকারে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মীর আলমগীর হোসেন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে আমেনা বেগমের প্রথম বিয়ে হয়েছিল এবং তার স্বামী লিভার ক্যানসারে মারা যান। সেই সংসারে তার দুই মাস বয়সী একটি সন্তান ছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিলে আমেনা আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার ‘আমার স্পিনিং মিলস লি.’-তে অপারেটর হিসেবে যোগ দেন। একই কারখানায় আমেনার বোন নুরজাহানও চাকরি করতেন, তবে ভিন্ন ফ্লোর ও শিফটে কাজ করায় তাদের যোগাযোগ কম ছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই কারখানায় কর্মরত শহিদের সঙ্গে ২০২৪ সালের শেষের দিকে আমেনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শহিদ আমেনাকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দিত না এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে আমেনার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মে মাসের শেষের দিকে নুরজাহান আমেনার খোঁজে তার বাসায় গিয়ে দেখেন আমেনা সেখানে নেই। পরবর্তীতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর নুরজাহান আমেনার নতুন বাসার ঠিকানা পান। সেখানে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমেনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ আমেনার কোনো স্বজনকে না পেয়ে শিমুলতলার দরগারপাড় কবরস্থানে মরদেহ দাফন করে। ঘটনার পর থেকে শহিদ পলাতক রয়েছে। আমেনার পরিবারের দাবি, শহিদ প্রায়ই তাকে মারধর করত এবং ঘটনার দিনও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শহিদ আমেনাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে আমেনার মরদেহ উদ্ধারের সময় পরিবারকে না পাওয়ায় আশুলিয়া থানা পুলিশ এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়

পরিবারকে না জানিয়ে পোশাককর্মীর দাফন, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১৬:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় আমেনা বেগম নামে এক পোশাককর্মীর মরদেহ তার পরিবারকে না জানিয়ে দাফন করার ঘটনায় স্বামী অলিউল্লাহ ওরফে শহিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার নিহতের বোন মোসা. রুবিনা বেগম আদালতে এই মামলার আবেদন করেন। ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে, বিষয়টি নিয়ে অন্য কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা সাত দিনের মধ্যে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রতিবেদন আকারে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মীর আলমগীর হোসেন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে আমেনা বেগমের প্রথম বিয়ে হয়েছিল এবং তার স্বামী লিভার ক্যানসারে মারা যান। সেই সংসারে তার দুই মাস বয়সী একটি সন্তান ছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিলে আমেনা আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার ‘আমার স্পিনিং মিলস লি.’-তে অপারেটর হিসেবে যোগ দেন। একই কারখানায় আমেনার বোন নুরজাহানও চাকরি করতেন, তবে ভিন্ন ফ্লোর ও শিফটে কাজ করায় তাদের যোগাযোগ কম ছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই কারখানায় কর্মরত শহিদের সঙ্গে ২০২৪ সালের শেষের দিকে আমেনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শহিদ আমেনাকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দিত না এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে আমেনার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মে মাসের শেষের দিকে নুরজাহান আমেনার খোঁজে তার বাসায় গিয়ে দেখেন আমেনা সেখানে নেই। পরবর্তীতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর নুরজাহান আমেনার নতুন বাসার ঠিকানা পান। সেখানে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমেনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ আমেনার কোনো স্বজনকে না পেয়ে শিমুলতলার দরগারপাড় কবরস্থানে মরদেহ দাফন করে। ঘটনার পর থেকে শহিদ পলাতক রয়েছে। আমেনার পরিবারের দাবি, শহিদ প্রায়ই তাকে মারধর করত এবং ঘটনার দিনও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শহিদ আমেনাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে আমেনার মরদেহ উদ্ধারের সময় পরিবারকে না পাওয়ায় আশুলিয়া থানা পুলিশ এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিল।