লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি ব্যয়ে নতুন গাড়ি ও বিদেশ ভ্রমণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন গাড়ি ক্রয়, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ এবং প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন খাতে ব্যয় বন্ধ বা সীমিত করার বড় ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত ঋণ প্রদানেও কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য হবে।

পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থও ব্যয় করা যাবে না। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে, ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওঅ্যান্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন কেনা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া নতুন বা প্রতিস্থাপিত সব জিপ ও কার অবশ্যই বৈদ্যুতিকচালিত হতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনাবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। তবে যদি কোনো নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে তা শেষ করার জন্য ব্যয় করা যাবে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানও স্থগিত রাখা হয়েছে।

উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রেও নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ থাকবে, তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিলযোগ্য হতে পারে। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিদেশি সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে উচ্চশিক্ষা, ফেলোশিপ কিংবা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ আগের মতোই বহাল থাকবে। প্রতিটি খাতে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই পরিপত্রের মূল উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে শিক্ষকের বকেয়া বিল ছাড়াতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ

সরকারি ব্যয়ে নতুন গাড়ি ও বিদেশ ভ্রমণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন গাড়ি ক্রয়, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ এবং প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন খাতে ব্যয় বন্ধ বা সীমিত করার বড় ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত ঋণ প্রদানেও কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য হবে।

পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থও ব্যয় করা যাবে না। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে, ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওঅ্যান্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন কেনা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া নতুন বা প্রতিস্থাপিত সব জিপ ও কার অবশ্যই বৈদ্যুতিকচালিত হতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনাবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। তবে যদি কোনো নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে তা শেষ করার জন্য ব্যয় করা যাবে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানও স্থগিত রাখা হয়েছে।

উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রেও নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ থাকবে, তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিলযোগ্য হতে পারে। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিদেশি সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে উচ্চশিক্ষা, ফেলোশিপ কিংবা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ আগের মতোই বহাল থাকবে। প্রতিটি খাতে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই পরিপত্রের মূল উদ্দেশ্য।